লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বলেছেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় আগামী ছয় মাসে দেশটির ৫০০ মিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন।
ইসরাইল ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলমান থাকতেই এই আহ্বান জানানো হলো।
লেবাননের পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সাথে বৈঠক করেন সালাম। সেখানে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে লেবাননের ‘ভৌগোলিক অখণ্ডতা’র প্রতি সমর্থনের বিষয়টিও আসে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সালাম বলেন, ‘আগামী ছয় মাসে মানবিক সঙ্কট মোকাবেলায় লেবাননের ৫০০ মিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন।’
মঙ্গলবার লেবানন জানায়, ২ মার্চ শুরু হওয়া সঙ্ঘাতে ছয় সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৫৪ জনে এবং আহত হয়েছেন সাত হাজার ৬৫৮ জন।
মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই এই সঙ্ঘাত শুরু হয়।
মাখোঁ ইসরাইলকে লেবাননে ‘ভৌগোলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগের’ আহ্বান জানান।
একইসাথে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের পক্ষ থেকেই তাদের নিরস্ত্র করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে এমন একটি চুক্তি প্রয়োজন, যা উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখবে এবং দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তার মতে, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা হবে। ১৪ এপ্রিল কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠকের পর এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আলোচনার আগে মঙ্গলবার সালাম বলেন, লেবানন তাদের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি বাহিনীর ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাহার’ চায়।
পাশাপাশি লেবাননের বন্দী ও বাস্তুচ্যুতদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবিও জানিয়েছে দেশটি।
প্যারিসের বৈঠকের আগে লেবাননে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষীদের ওপর এক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এক ফরাসি সেনা নিহত ও আরো তিনজন আহত হন।
ফ্রান্স এ হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছে।
মাখোঁ বলেন, ‘জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ বছরের শেষে শেষ হলেও, লেবাননে মাঠপর্যায়ে তাদের অঙ্গীকার বজায় রাখতে প্রস্তুত রয়েছে ফ্রান্স।’
তবে ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে হিজবুল্লাহ।
সূত্র: বাসস



