বিহারে মাদরাসায় যাওয়ার পথে হিন্দুত্ববাদীদের মারধরের শিকার ছোট্ট ছাত্ররা

দাবি করা হচ্ছে যে, মাদরাসার ছাত্রছাত্রীদের উত্তরাখণ্ডে আসা ঠেকাতে রাজ্যে মাদরাসা বোর্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
উত্তরাখণ্ডের মানচিত্র
উত্তরাখণ্ডের মানচিত্র |সংগৃহীত

ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে বিহার থেকে আসা মাদরাসার কয়েকজন ছাত্রকে হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর (বজরং দল) সদস্যরা হেনস্থা ও মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ঘটনার পর, বজরং দল অভিযোগ করে যে বিহার থেকে নিয়ম মেনে শিশুদের মাদরাসায় আনা হচ্ছে না। এজন্যই তাদেরকে মারধর করেছেন তারা। ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার রাজ্যের ৪টি জেলার মাদরাসায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

দেরাদুন-ভিত্তিক মুসলিম সংগঠন ‘মুসলিম সেবা সংগঠন’ স্থানীয় পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম কুরেশি বলেন, গত ১৭ এপ্রিল প্রায় ১০-১২ জন শিশু একটি মাদরাসায় পড়তে দেরাদুনে আসছিল, তখন বজরং দলের কিছু লোক তাদের পথ আটকে কয়েকজনকে মারধর করে।

কুরেশি আরো বলেন, বজরং দলের লোকেরা তাদের এটা-সেটা বলছিল এবং বলছিল যে তারা কিভাবে বিহার থেকে এখানে আসে। বিহার কি ভারতের অংশ নয়? এটি কোন আলাদা দেশ নয়। দেরাদুন একটি শিক্ষাকেন্দ্র। এখানে অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় আছে। বিভিন্ন জায়গা ও এলাকা থেকে ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়তে আসে। তাদের এই অধিকার আছে ।

মুসলিম আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়তে এলে মাদরাসার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সমস্যাটা কী?

দাবি করা হচ্ছে যে, মাদরাসার ছাত্রছাত্রীদের উত্তরাখণ্ডে আসা ঠেকাতে রাজ্যে মাদরাসা বোর্ড বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কুরেশি বলেন, যদি মাদরাসা বোর্ড বন্ধ করে দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে কী করতে হবে তা মাদরাসাবোর্ড এবং প্রশাসনের ব্যাপার। তবে এই লোকেরা কেন গুন্ডামিতে লিপ্ত?

কুরেশির মতে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য এসএসপি ও প্রশাসনের সাথে তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কোনো কারণে তা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটির একটি ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কিছু লোক বিহার থেকে উত্তরাখণ্ডে আসার জন্য ছোট ছেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তারা জিজ্ঞাসা করে, ‘আপনারা বিহার থেকে এখানে বাচ্চাদের নামিয়ে দিতে কেন এসেছেন? দেরাদুন মাদরাসার বিশেষত্ব কী?’

এক ব্যক্তি মাদরাসার ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করলেন। লোকগুলো একজন ১৩ বছর বয়সী ও একজন ১০ বছর বয়সী শিশুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদরাসার শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইল। মাদরাসার ছাত্রছাত্রীরা ব্যাখ্যা করছিল যে তাদের মাদরাসায় কী শেখানো হয়।

সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুসলিম সেবা সংগঠনের সহ-সভাপতি আক্কি কুরেশি বলেন, তিনি এই মাদরাসার ছাত্রদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছেন এবং তারা তাকে জানিয়েছেন যে, ছাত্রদের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে।