তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত, এবার ইস্তফা দিলেন রাজ্যসভার সদস্য কোয়েল মল্লিক

তবে, কোয়েল মল্লিক এভাবে পদত্যাগ করায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের বর্তমান শক্তি তলানিতে ঠেকার পথে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তৃণমূল ভাঙন এখন দলের অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কোয়েল মল্লিক
কোয়েল মল্লিক |সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলে কংগ্রেসে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। একের পর এক রাজ্যসভার পদ ছাড়ছেন তৃণমূলের অনেকেই। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পর এবার রাজ্যসভার পদ ছাড়লেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কোয়েল মল্লিক বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের আনুষ্ঠানিক ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

তবে, কোয়েল মল্লিক এভাবে পদত্যাগ করায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের বর্তমান শক্তি তলানিতে ঠেকার পথে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তৃণমূল ভাঙন এখন দলের অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে।

রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট সদস্য ছিলেন ১৩ জন। তবে কোয়েল মল্লিক ইস্তফা দেয়ার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মোট সদস্য সংখ্যা ১৩ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

তবে, এখানেই তৃণমূলের অস্বস্তি শেষ হচ্ছে না। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই সপ্তাহে আরো বেশ কয়েকজন সদস্য নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার পাশাপাশি দল ত্যাগও করতে পারেন বলে জানা গেছে।

প্রথমে পৌরসভা, তারপরে বিধানসভা ও লোকসভা, আর এবার রাজ্যসভা, ছাব্বিশের নির্বাচনের হারের পর থেকেই তৃণমূল কার্যত ভেঙে খান খান হয়েছে। তৃণমূল ভাঙন প্রক্রিয়ার এই ধারা এখন দলের অস্তিত্বের সঙ্কট তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের একটি বিদ্রোহী পরিষদীয় গোষ্ঠী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। ওই ব্লকে বর্তমানে ৬৪ জন বিধায়ক রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। একই ধাঁচে লোকসভাতেও নতুন তৃণমূল গড়ে উঠেছে, যেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন সদস্য এনডিএ-তে যোগ দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর সেই জল্পনা সত্যি হলে লোকসভায় এনডিএ জোটের শক্তি আরো বাড়বে। এর ফলে বিভিন্ন সংশোধনীর ক্ষেত্রে সুবিধা হবে বিজেপির।

একই পদ্ধতিতে এখন রাজ্যসভাতেও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। যদিও এখানে ভাঙনের কৌশল কিছুটা ভিন্ন। সংসদের উচ্চকক্ষে একসাথে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করা কঠিন হওয়ায় বিদ্রোহী সদস্যরা একে একে ইস্তফার পথ বেছে নিচ্ছেন। এই ধারার প্রথম পদত্যাগটি করেছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। এরপর বুধবার পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব এবং বৃহস্পতিবার কোয়েল মল্লিক ও প্রকাশ চিক বরাইক সদস্য পদ ছাড়েন। রাজনৈতিক পরিস্থিতির যা সমীকরণ, তাতে এই আসনগুলোতে উপ-নির্বাচন হলে বিজেপিই জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তৃণমূল ভাঙন অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।