ট্রাম্পের কাছে আবেদন

মোদি বললেন, ‘স্যার, আমি কি আপনার সাথে দেখা করতে পারি?’

‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এলেন। বললেন - ‘স্যার, আমি কি আপনার সাথে একটু দেখা করতে পারি?’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
নরেন্দ্র মোদি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

বহুদিন ঝুলে থাকা অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সরবরাহ ও শুল্ক ইস্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে সাক্ষাতের একটি স্মৃতি স্মরণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত পাঁচ বছর ধরে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল, কিন্তু পায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এলেন। বললেন - ‘স্যার, আমি কি আপনার সাথে একটু দেখা করতে পারি?’ ট্রাম্পের দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বাণিজ্যিক টানাপড়েন - দু’টি বিষয়কেই একসঙ্গে টেনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নতুন দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার বক্তব্য, বহুদিন ঝুলে থাকা অ্যাপাচে হেলিকপ্টার সরবরাহ ও শুল্ক ইস্যুতে স্বয়ং মোদি তার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

হাউস রিপাবলিকান সদস্যদের রিট্রিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত পাঁচ বছর ধরে অ্যাপাচে হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল, কিন্তু পায়নি। প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার কাছে এলেন। বললেন - ‘স্যার, আমি কি আপনার সাথে একটু দেখা করতে পারি?’ ট্রাম্পের দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘খুবই ভালো’।

তবে একইসাথে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, শুল্ক নীতিকে ঘিরে মোদি তার ওপর বিশেষ খুশি নন। তার কথায়, ‘ওঁ খুব খুশি নয়। কারণ এখন ওঁদের অনেক শুল্ক দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে তেল কেনার কারণে।’ যদিও তিনি যোগ করেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।

শুল্ক নীতির সাফল্য নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ‘আমরা শুল্কের মাধ্যমে ধনী হয়ে উঠছি। শিগগিরই ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ আমেরিকায় আসছে, শুধুই ট্যারিফের কারণে।’

প্রতিরক্ষা সম্পর্কের প্রসঙ্গেও ফের অ্যাপাচে হেলিকপ্টারের বিলম্বিত সরবরাহ নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, ভারত মোট ৬৮টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার অর্ডার করেছিল এবং সেই বিষয়টি এখন আলোচনার পর্বে রয়েছে, যদিও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প।

এর আগেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছিলেন, প্রয়োজনে ভারতের উপর আরো শুল্ক চাপানো হতে পারে। তার মন্তব্য ছিল, ‘রাশিয়ার তেল ইস্যুতে যদি ভারত সাহায্য না করে, তাহলে আমরা শুল্ক বাড়াতে পারি।’

তবে একইসাথে তিনি বলেন, ‘মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করাটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা খুব দ্রুতই শুল্ক বাড়াতে পারি।’

বর্তমানে আমেরিকা ভারতের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক সরাসরি যুক্ত ভারতের রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার সাথে। ওয়াশিংটনের দাবি, মস্কোর সাথে জ্বালানি বাণিজ্য বন্ধ করতে দেশগুলোর উপর চাপ তৈরি করাই এই নীতির উদ্দেশ্য।

সূত্র : দ্য ওয়াল