ভাতা বন্ধে হতাশ পশ্চিমবঙ্গের ইমাম মুয়াজ্জিন পুরোহিতরা

নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, বিগত সরকারের আমলে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক প্রকল্পগুলোকে অব্যাহত রাখা হবে। কিন্তু সোমবারই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলো; বন্ধ করে দেয়া হলো ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভাতা বন্ধের ঘোষণার পর পরই রাজ্যের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতরা হতাশ হয়েছেন
ভাতা বন্ধের ঘোষণার পর পরই রাজ্যের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতরা হতাশ হয়েছেন |প্রতীকী ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের মাত্র ১০ দিনের মাথায় দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই ঘোষণার পর পরই রাজ্যের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের মধ্যে একেবারে হইচই পড়ে যায় ও গভীর হতাশা প্রকাশ করছেন তারা।

কারণ, নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, বিগত সরকারের আমলে চালু থাকা সমস্ত সামাজিক প্রকল্পগুলোকে অব্যাহত রাখা হবে। কিন্তু সোমবারই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলো; বন্ধ করে দেয়া হলো ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা।

ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের যারা এতদিন এই ভাতা পেতেন তাদের বেশিরভাগই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। এই সামান্য ভাতাও তাদের সংসার চালানোতে বড় সহায়ক হতো।

এ প্রসঙ্গে অল বেঙ্গল ইমাম-মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা সলিমুদ্দিন বলেন, এটা আমাদের ওপর সরকারের দেয়া বড় আঘাত। কারণ, অত্যন্ত গরিব মানুষরা মসজিদে ৩৬৫ দিন কাজের বিনিময়ে সরকারের দেয়া যথাক্রমে ৩০০০ ও ১৫০০ টাকা করে সামান্য মাসিক ভাতা পেতেন। এটা বন্ধ হওয়ার ঘোষণার পর থেকে অনেকে ভেঙে পড়েছেন। অনেকে আমাকে ফোন করে তাদের দুঃখ-দুর্দশা ও হতাশার কথা জানাচ্ছেন। আমরা খুব দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে সংগঠনের তরফ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। পাশাপাশি এই ভাতা চালু রাখার জন্য আমরা নতুন সরকারের কাছে আবেদন জানাব।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা মাদরাসা সমন্বয় সমিতির (রাবেতা) সম্পাদক মাওলানা মাকসুদ আলী কাসেমি বলেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য একটা বড় আঘাত। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন- আগের সরকারের সমস্ত সামাজিক প্রকল্প চালু থাকবে। কিন্তু সরকারের প্রতিশ্রুতির উল্টো ঘোষণা দেয়া হলো আজ (সোমবার)।

তিনি বলেন, আমরা নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। কারণ, কোরবানি নিয়ে নির্দেশিকা জারির পর মুসলিম সমাজের কাছে এটিও একটি বিরাট আঘাত। সূত্র : পুবের কলম