ভারতের পাঞ্জাব রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক ড. জগমোহন সিং রাজু সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানকে একটি চিঠি লিখেছেন। সেখানে তিনি তরুণ শিখ দম্পতিদের জন্য আর্থিক সহায়তা চালু করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সম্প্রতি অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার তৃতীয় ও চতুর্থ সন্তানের জন্য যে নগদ ৩০ ও ৪০ হাজারের ঘোষণা দিয়েছে, রাজু পাঞ্জাবেও সেই একই রকম নীতি চালুর দাবি তুলেছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশটির একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাজু স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, পাঞ্জাবের প্রতিটি শিখ পরিবারের চারটি করে সন্তান থাকা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীকে দেয়া চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, শিখ সম্প্রদায় ভারতে সাংবিধানিকভাবে একটি স্বীকৃত সংখ্যালঘু গোষ্ঠী।
ভারতের জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার (এনএফএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রধান প্রধান সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে শিখদের প্রজনন হার সবচেয়ে কম। এর ফলে শিখ জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। পরিসংখ্যানের দিকে আঙুল তুলে রাজু উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে পাঞ্জাবের জনসংখ্যায় শিখদের হার ছিল ৬২.৯৫ শতাংশ। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে তা কমে ৫৭.৬৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন লক্ষণ ইঙ্গিত করছে যে এই পতনের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এই নীতিটি অবিলম্বে কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে রাজু বলেন, এই জনসংখ্যাগত পতন পাঞ্জাবের শিখ সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি মারাত্মক উদ্বেগের বিষয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রতিরক্ষা, কৃষি এবং জাতীয় উন্নয়নে শিখ সম্প্রদায়ের অবদান অনন্য ও দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত। এই পদক্ষেপটি তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসংখ্যাগত শক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে সাহায্য করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রাজ্য সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে।
পরবর্তীকালে যোগাযোগ করা হলে রাজু অবশ্য স্পষ্ট করেন যে, এটি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত; দলের নয়। তিনি বলেন, পাঞ্জাবের জনসংখ্যার চিত্র খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে যেমন এখন মনে করা হচ্ছে যে, ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ নীতির কারণে ভবিষ্যতে তাদের জনসংখ্যা বাড়ানো দরকার, ঠিক একইভাবে পাঞ্জাবেও শিখ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন।
একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।



