পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ওয়াশিংটন যদি কিছু ছাড় দেয় তবে ইরান হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
আল জাজিরা ও রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ টানাপড়েন কাটাতে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় আবারো আলোচনার টেবিলে বসতে পারে চিরবৈরী দু’দেশ।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র এই উদ্যোগ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পরবর্তী দফার এই আলোচনা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার জোরাল সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর চাপিয়ে দেয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথটি ‘শত্রু জাহাজ’ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। গত রোববার পাকিস্তানি মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনা কোনো সুরাহা ছাড়াই শেষ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রণালীতে কথিত পুরোপুরি অবরোধের ডাক দেন।
তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে এখন ওমান উপকূলে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে, যদিও এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নমনীয় হতে হবে। তবে এই সুযোগ ইহুদিবাদী ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য প্রযোজ্য হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। ওমান অংশে জাহাজ চলাচলের এই প্রস্তাবটি নিয়ে আগে থেকেই কাজ চলছিল বলে পশ্চিমা একটি সূত্র নিশ্চিত করলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই শান্তি আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহেও বড় স্বস্তি ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



