তুরস্ক থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে রওনা হওয়া ‘আল-সামুদ’ বহরে মাঝসমুদ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি নৌবাহিনী। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও বহু অ্যাক্টিভিস্ট আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার ইরানের বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, গাজার ওপর চলা ইসরাইলি অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এই প্রতিরোধ বহরের জাহাজগুলোকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। হামলার পর থেকে ‘মাঙ্কি’ নামের একটি জাহাজের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
ইসরাইলের ১৩তম কমান্ডো ইউনিট ইতোমধ্যেই আল-সামুদ বহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে। ইসরাইলি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বহরে থাকা অ্যাক্টিভিস্টদের জাহাজের ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। বহরে থাকা এক অ্যাক্টিভিস্ট জানিয়েছেন, আচমকাই চারটি ইসরাইলি বোট এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। সাইপ্রাস উপকূলের কাছাকাছি এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আল-সামুদ বহরের এই মিশনটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল এবং এর একমাত্র লক্ষ্য ছিল গাজার মানবিক সঙ্কট দূর করতে অবরোধ ভাঙা। কিন্তু সাগরের বুকেই এটি বেআইনি আগ্রাসনের মুখে পড়ল।
এই মানবিক মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার পরিচালনা পর্ষদের একঝাঁক শীর্ষ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন সুমেইরা আকদেনিজ ওরদু, ডক্টর ইমানে আল-মাখলুফি, সাইফ আবু কেশক, কো তিনমাউং এবং নাতালিয়া মারিয়ার মতো পরিচিত মুখগুলো।
ইসরাইলি বাহিনী ইতিমধ্যেই আল-সামুদ বহরে থাকা অ্যাক্টিভিস্টদের আটক করেছে বলে জানা গেছে। গাজা উপত্যকায় পৌঁছানো ঠেকাতে এই বহরের ওপর সামরিক হামলা চালানোর এবং জাহাজগুলো জব্দ করার সিদ্ধান্ত ইসরাইলি নৌবাহিনী আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিল। এর আগে গত ১৪ মে ইসরাইলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, গাজায় পৌঁছানোর আগেই কমান্ডোরা এই বহরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেবে।
গত ৮ মে ৩০টি নৌযান নিয়ে গাজা উপত্যকার অবরোধ ভাঙার এই নতুন অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিল গ্লোবাল ফ্লিট অব রেজিস্ট্যান্স। শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই সাইপ্রাস উপকূলে ইসরাইলি নৌবাহিনীর বাধার মুখে পড়ল পুরো বহরটি।
সূত্র : ইরনা ও মিডল ইস্ট মনিটর



