মার্কিন রণতরীগুলোকে ধ্বংস করতে ইরান নাকি এবার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডলফিন ব্যবহার করতে পারে। এই ডলফিনগুলো আত্মঘাতী বা ‘কামিকাজে’ কায়দায় মাইন বহন করে আছড়ে পড়বে শত্রু জাহাজে। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় যুদ্ধের মেঘ ক্রমেই ঘন হচ্ছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালীতে মাইন আতঙ্ক যখন তুঙ্গে, তখন আলোচনায় উঠে এসেছে এই অদ্ভুত কিন্তু রোমহর্ষক গোয়েন্দা তথ্য।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন থেকে শুরু হওয়া এই জল্পনা এখন মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের সদর দফতর পেন্টাগন পর্যন্ত গড়িয়েছে। তবে এই দাবি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে কিছুটা অস্বস্তিতে আছে, তা কর্মকর্তাদের কথায় স্পষ্ট।
ডলফিন নিয়ে পেন্টাগনের লুকোচুরি
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়। ইরান কি সত্যিই ডলফিন বাহিনীকে যুদ্ধে নামাচ্ছে? এর জবাবে হেগসেথ কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের কাছে এই মুহূর্তে মোতায়েন করার মতো কোনো ডলফিন নেই- এটা তিনি ‘নিশ্চিত’ করতে পারেন।
কিন্তু প্রশ্ন যখন উল্টা ঘুরে নিজের দেশের দিকে এলো, তখন তিনি বেশ রহস্যজনক উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘কামিকাজে ডলফিন’ আছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত করবেন না, আবার অস্বীকারও করবেন না। ওয়াশিংটনের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে এখন নানা মহলে কানাঘুষো চলছে। নিজেরা ডলফিনকে সামরিক কাজে ব্যবহার করলেও অন্যের বেলাতে তারা যে আঙুল তুলতে ছাড়ছে না, সেটিই এখানে ফুটে উঠেছে।
সাগরের নিচে ডলফিন যুদ্ধের ইতিহাস
সমুদ্রে স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সামরিক কাজে ব্যবহারের ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৫৯ সাল থেকেই মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশেষ প্রোগ্রাম রয়েছে যেখানে ডলফিন এবং সমুদ্র সিংহদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া সি লায়ন আর বটলনোজ ডলফিনদের পানির নিচের মাইন খুঁজে বের করা বা বিশেষ বস্তু শনাক্ত করার কাজে লাগানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বিজ্ঞানের জানা সবচেয়ে উন্নত সোনার বা শব্দতরঙ্গ ব্যবস্থার চেয়েও ডলফিনের প্রাকৃতিক ক্ষমতা অনেক বেশি শক্তিশালী। এমনকি অত্যাধুনিক পানির নিচের ড্রোনও ডলফিনের কাছে নস্যি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় দাবি করে এসেছে যে তারা ডলফিনদের আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহার করে না, বরং কেবল মাইন শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করে। যদিও রাশিয়ার মতো দেশগুলো তাদের বন্দর পাহারা দেয়ার কাজে ডলফিন ব্যবহার করেছে বলে বিভিন্ন সময়ে খবর এসেছে।
ইরানের সক্ষমতা আর মার্কিন উদ্বেগ
২০০০ সালে ইরান কিছু ডলফিন কিনেছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক রিপোর্টে জানিয়েছিল। তবে সেই ডলফিনগুলো এখন বেঁচে থাকার কথা নয় বা সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য অনেক বয়স্ক হয়ে যাওয়ার কথা। বর্তমানে তেহরানের এই ধরনের কোনো সক্রিয় ডলফিন প্রোগ্রাম আছে কি না, তার কোনো অকাট্য প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি।
কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে এই ডলফিন-তত্ত্বকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছে, তা হেগসেথের কথাতেই পরিষ্কার। হরমজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে যদি সত্যিই পানির নিচে কোনো ‘জীবন্ত মাইন’ ধেয়ে আসে, তবে সেটি ঠেকানো তাদের আধুনিক প্রযুক্তির জন্য বেশ কঠিন হবে বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
আপাতত হরমজ প্রণালীর নোনা পানিতে ডলফিন আতঙ্ক মার্কিন নৌবাহিনীর কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি



