ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্যবস্তু এবং সমরাস্ত্রের ভাণ্ডার পুরোপুরি নতুন করে সাজিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুত।
মঙ্গলবার ইরানের টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আমির আকরামিনিয়া দেশের সামরিক প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা মাথায় রেখেই সেনাবাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশেষ করে স্থলবাহিনী শুধু সীমান্ত রক্ষাই করেনি, বরং ড্রোন এবং মিসাইল হামলার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রস্তুতির কারণেই শত্রু পক্ষ স্থলপথে হামলার সাহস দেখায়নি।
আমির আকরামিনিয়া যুদ্ধের ময়দানের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, যুদ্ধের দিনগুলোতে শত্রুপক্ষের ১৭০টিরও বেশি বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি ছিল অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। ইরানের সেনাবাহিনী বা আরতেশ এবং ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বা আইআরজিসির আকাশ প্রতিরক্ষা বিভাগ যৌথভাবে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের অনেক ড্রোনই সাধারণ যুদ্ধবিমানের চেয়েও বেশি কার্যকর, প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত এবং বেশ দামি ছিল। তা সত্ত্বেও ইরানি বাহিনীর নিশানার সামনে সেগুলো টিকতে পারেনি। এর পাশাপাশি ইরানের বিমানবাহিনী কুয়েত, কাতার এবং ইরাকের এরবিল এলাকায় শত্রু ঘাঁটিগুলোতে সফল অভিযান চালিয়েছে। এমনকি মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে তাদের ঘাঁটিগুলোতে ইরানের এফ-ফাইভ যুদ্ধবিমানের সেই দুর্ধর্ষ অভিযানের কথা উঠে এসেছে।
সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্রের মতে, যুদ্ধ থেমে যাওয়া মানেই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের ওপর ইরানের কোনো আস্থা নেই। তাই যুদ্ধবিরতি বা রণক্ষেত্রের নীরবতার প্রতিটি মুহূর্তকে তারা প্রস্তুতির কাজে লাগাচ্ছেন। যুদ্ধের অমূল্য অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে এবং আগের চেয়ে অনেক উন্নত রণকৌশল সাজানো হয়েছে।
আকরামিনিয়া বলেন, আমাদের কাছে পরিস্থিতি এখনো যুদ্ধের মতোই। যদি আবারো কোনো আগ্রাসন চালানো হয়, তবে ইরান এমন সব নতুন হাতিয়ার এবং পদ্ধতি ব্যবহার করবে যা শত্রু কল্পনাও করতে পারবে না। বিশেষ করে গত ১২ থেকে ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানি বাহিনীকে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
বক্তব্যের শেষে তিনি দুশমনের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের হাতে এমন কিছু তুরুপের তাস আছে যা এখনো ব্যবহার করা হয়নি। ইরানের নিরাপত্তার ওপর যদি কোনো আঘাত আসে, তবে আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী জবাব দেয়া হবে।
একইসাথে তিনি ইরানি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মানুষের অকুতোভয় সমর্থনই সেনাবাহিনীর আসল শক্তি। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, বীর সেনানিরা রক্তের শেষ বিন্দু দিয়ে হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
সূত্র : তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি



