মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের নেতৃত্বের প্রতি তার তীব্র বিদ্বেষের কথা ব্যক্ত করছেন। ডেমোক্রেসি এবং নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে তিনি আসলে এমন এক স্থায়ী পরিবর্তনের খোঁজে ছিলেন, যা ইরানকে চিরতরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত বা অন্তত একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করবে।
ওয়াশিংটন-ভিত্তিক চিন্তাধার বা থিঙ্কট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের ডিফেন্স কনসেপ্টস ডিরেক্টর ব্রায়ান ক্লার্ক আল জাজিরার সাথে আলাপকালে এমনটাই দাবি করেছেন। ক্লার্কের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মনে করেছিল ইরান বর্তমানে এক ধরনের কোণঠাসা অবস্থায় আছে, আর এটাই সুযোগ তেহরানকে চিরতরে নিজদের বশে আনার।
কিন্তু এই ভাবনার পেছনে ইতিহাসের সঠিক পাঠ ছিল না। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব না দেয়ার এই খেসারত হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে খুব সহজেই সরিয়ে দেয়া সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক ভুলের খেসারত
ব্রায়ান ক্লার্ক মনে করেন, ইরানের শাসন কাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটনের এই অতি আত্মবিশ্বাস মোটেও নতুন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে ইরানের বর্তমান ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে একে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য ছিল এমন একটি ‘লেগাসি’ বা উত্তরাধিকার রেখে যাওয়া, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অবস্থানকে পুরোপুরি বদলে দেবে। ক্লার্কের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ভেবেছিলেন ইরান যেহেতু এখন নানামুখী সঙ্কটে জর্জরিত, তাই হয়তো একটু ধাক্কা দিলেই দেশটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়বে। ইসরাইলও একই সুরে সুর মিলিয়ে এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। ওয়াশিংটন-তেলআবিব উভয়েই বিশ্বাস করেছিল, ইরানকে চূড়ান্তভাবে নতজানু করার এখনই সেরা সময়।
ইরানের কঠিন বাস্তবতা
তবে মাঠের বাস্তবতা যে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবনার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, তা ফুটে উঠেছে ক্লার্কের কথায়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব এবং শাসন কাঠামোর যে শক্ত ভিত্তি রয়েছে, তা উপড়ে ফেলা অতটা সহজ হবে না। ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণার মধ্যে এক ধরনের শূন্যতা রয়েছে। অর্থাৎ ইরানের ইতিহাস এবং তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধের সক্ষমতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অবমূল্যায়ন করেছে।
আল জাজিরার কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেইজের সাথে কথা বলার সময় ক্লার্ক তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে দেশটির নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার মার্কিন পরিকল্পনাটি আসলে একটি ঐতিহাসিক ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল।



