ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচির সাথে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
ইরানের সরকারি বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তেহরানে স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) বিকেলে বৈঠক করেন তারা।
ওয়াশিংটনের সাথে চলমান উত্তেজনা কমাতে তেহরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করেন। বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি ইরান-মার্কিন আলোচনার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এদিকে, এর আগে ইরানের ছাত্র বার্তাসংস্থা ইসনা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনা কমাতে এক বিশেষ বার্তা নিয়ে তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। শনিবার রাতে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সাথে এক জরুরি বৈঠক করেছেন তিনি।
বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি বিশেষ চিঠি তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির কাছে পৌঁছে দিতে এসেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি এ চিঠিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিবেশী এই দুই মুসলিম দেশের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গভীর মিল রয়েছে।
বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। একইসাথে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্য তিন বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এক ভাইয়ের সমস্যা হলে অন্য ভাইও তা অনুভব করে।
পাশাপাশি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের আন্তরিক চেষ্টায় চলমান এই সঙ্কটের দ্রুত অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: ইরনা, ইসনা



