বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা দেড় কোটির বেশি

ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটির বেশি, যার বড় অংশই উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছে। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অভিযান, বাস্তুচ্যুতি ও অবৈধ বসতি স্থাপনের কারণে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মঙ্গলবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারাবিশ্বে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই বসবাস করছেন প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার সেই দুঃসহ স্মৃতি বা ‘নাকবা’র ৭৮ বছর উপলক্ষে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।

হিসেবে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৮১ লাখ ফিলিস্তিনি বর্তমানে নিজ দেশ ছেড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্বাস্তু হিসেবে জীবন কাটাচ্ছেন।

ইসরাইলি আগ্রাসন আর বসতি স্থাপনের জেরে গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভেতরেই ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর আগে সেখানে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস ছিল, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষই এখন ভিটেমাটি হারিয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা তাদের ঠেলে দিয়েছে তাঁবু, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা স্কুলগুলোতে।

শুধু গাজা নয়, পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলেও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি তাদের শরণার্থী শিবির ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইসরাইল সেখানে একের পর এক অবৈধ বসতি গেড়ে বসছে।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পাওয়া তথ্য বলছে, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি আর সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৫টিতে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৭ লাখ ৭৮ হাজার ইসরাইলি দখলদার বসবাস করছে, যাদের বড় অংশই আছে অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালে বিভিন্ন আদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ৫ হাজার ৫৭১ দুনাম জমি কেড়ে নিয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও দখলদারদের চালানো ৬০ হাজারের বেশি হামলায় অন্তত ৮১ হাজার গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, যার বেশিভাগই ছিল ফিলিস্তিনিদের রুটিরুজি ও ঐতিহ্যের প্রতীক জলপাই গাছ। পুরো পশ্চিম তীর জুড়ে বসানো হয়েছে প্রায় ৯০০টি সামরিক চেকপোস্ট। এসব কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষের চলাফেরা যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি তারা নিজেদের চাষের জমি ও চারণভূমি থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।

গাজায় গত দু’বছরের ইসরাইলি অভিযানে ১ লাখ ২ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল আর অবকাঠামোর কোনো চিহ্নই প্রায় অবশিষ্ট নেই।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা এই ভয়াবহ হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বেশিভাগেই নারী ও শিশু। এই দীর্ঘ সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ।

সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর