মার্কিন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন রুট এখন ইরানের হাতে!

ইরান দাবি করছে, তারা এখন মার্কিন যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন রুট সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো কার্যকরভাবে মোতায়েনে সহায়তা করছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

মার্কিন যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানগুলো আকাশসীমার ঠিক কোনো পথ ধরে ওড়ে, তার নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করে ফেলেছে ইরানি সামরিক কমান্ডাররা। এই অগ্রগতির ফলে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন আরো নিখুঁতভাবে মোতায়েন করা সম্ভব।

নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার মিডল ইস্ট আইয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার গোপন সহযোগিতায় এই কৌশলগত সাফল্য পেয়েছে তেহরান।

মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে ইরান আক্রমণের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এখন এই বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়টিই সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যাপক কূটনৈতিক অনুরোধের পর আক্রমণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের দাবি ছিল, ইরানের সামরিক শক্তি ও বিমান প্রতিরক্ষা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। মার্কিন বিমানগুলো ইরানি আকাশে যাতায়াত করতে পারলেও সেখানে তাদের কোনো একক আধিপত্য নেই।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগে ইরানের আকাশসীক্ষায় একটি মার্কিন এফ-ফিফটিন-ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে তেহরান। সেই ঘটনার পর পাইলটদের উদ্ধারে ওয়াশিংটনকে বিশাল এক অভিযান চালাতে হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি কোনো মার্কিন পাইলটকে জীবিত বন্দি করতে পারত, তবে ওয়াশিংটনের ওপর এক প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হতো।

মার্কিন কর্মকর্তার মতে, ওই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়াই প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ওড়ার পথগুলো এখন ইরানের কাছে নিজ হাতের রেখাগুলোর মতোই স্পষ্ট এবং অনেক বেশি অনুমানযোগ্য হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ যত গড়িয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান নিখুঁত নিশানা করার ক্ষেত্রে ইরান ততটাই পারদর্শী হয়ে উঠেছে। গত মার্চে একটি অত্যাধুনিক এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এছাড়া ইরানের আকাশে অন্তত ১৬টি এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে খবর মিলেছে।

মার্কিন বিমান ওড়ার এই পথগুলো চিহ্নিত করার পেছনে রাশিয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক বোঝাপড়ার অংশ হিসেবে রুশ কর্তৃপক্ষ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনাদলের উপগ্রহ ছবি দিয়ে ইরানকে সাহায্য করেছে।

বর্তমানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নিজেদের তৈরি সমরাস্ত্রের পাশাপাশি রুশ ও চীনা প্রযুক্তির এক শক্তিশালী মিশ্রণ রয়েছে। গত বছরের জুনের যুদ্ধের পর চীন যে ইরানকে বিশেষ এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি সরবরাহ করেছিল, তা প্রথম প্রকাশ পায় সংবাদমাধ্যমে।

ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের ঘটনা ভিন্ন কথা বলছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামিক রিপাবলিকের সামরিক বাহিনী এখনও বেশ সুসংগঠিত। যুদ্ধের আগের তুলনায় ইরানের প্রায় সত্তর শতাংশ মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যান এবং প্রায় একই পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত আছে। মাটির গভীর সুড়ঙ্গে থাকা যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনী আঘাত করেছিল, যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান সেখান থেকে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ফেলেছে। ভেতরের মূল অস্ত্র ব্যবস্থাগুলোর কোনো ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি।