মার্কিন হিসাব উল্টে দিয়ে দ্রুত সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে ইরান

ইরান মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন উৎপাদন ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোর বড় অংশ ইতোমধ্যে পুনরুদ্ধার করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ধূলিসাৎ করে দিয়ে ধারণার চেয়েও কয়েক গুণ দ্রুতগতিতে নিজেদের সামরিক শিল্প পুনর্গঠন করছে ইরান।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে তেহরান তাদের ড্রোন উৎপাদন আবারো শুরু করে দিয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের আগের সব হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণ করে দিয়ে ইরানি সামরিক বাহিনী কল্পনাতীত গতিতে তাদের যুদ্ধ সক্ষমতা ফিরিয়ে আনছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি লড়াইয়ে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লাঞ্চার ও প্রধান প্রধান অস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস হয়েছিল, তার বেশিভাগই ইতোমধ্যে নতুন করে গড়ে তুলেছে ইরান। ফলে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় দীর্ঘমেয়াদে ইরানের সামরিক শক্তি কতটা দুর্বল করা গেছে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের একাংশের ধারণা ছিল, ড্রোন সক্ষমতা ফিরে পেতে ইরানের দীর্ঘ সময় লাগবে। অথচ এখন দেখা যাচ্ছে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশটি সম্পূর্ণ ড্রোন আক্রমণ ক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।

মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী যে পরিমাণ ক্ষতি করতে চেয়েছিল, বাস্তব চিত্র মোটেও তেমন নয়। পেন্টাগন ও সেন্টকমের পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক শিল্প ৯০ শতাংশ ধ্বংসের দাবি করা হলেও মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। আসলে ইরানের অর্ধেক নয়, বরং দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত আছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগে মাটির নিচে চাপা পড়া লাঞ্চারগুলোও উদ্ধার করেছে ইরানি বাহিনী।

এছাড়া হাজার হাজার ড্রোন এখনো ইরানের হাতে মজুত আছে, যা তাদের মোট ড্রোন ক্ষমতার প্রায় অর্ধেক। একইসাথে পারস্য উপসাগরে যেকোনো জাহাজ চলাচল রুখে দেয়ার জন্য ইরানের উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বেশিভাগই একদম সুরক্ষিত রয়েছে।

রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে পাওয়া পরোক্ষ সহযোগিতা এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর নিজস্ব প্রযুক্তির কারণেই ইরান মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তাদের সামরিক শিল্পকে আগের জায়গায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।