ট্রাম্পের মেজাজ ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিনিদের বাড়ছে সংশয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ইরান যুদ্ধ ও বিতর্কিত আচরণের কারণে কমছে, তার মেজাজ ও মানসিক সক্ষমতা নিয়েও বাড়ছে সংশয়। জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধনীতি, অর্থনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তার অবস্থান নিয়ে বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিক অসন্তুষ্ট।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ আর পোপ লিওর সাথে বিবাদের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ বলছে, বেশিভাগ আমেরিকানই এখন ৭৯ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টের মেজাজ আর মানসিক সুস্থতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন।

রয়টার্স ও ইপসোস পরিচালিত ছয় দিনব্যাপী এই জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের কাজের ধরনে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ, যা গত এক মাসের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অথচ ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেয়ার পরপরই তার জনপ্রিয়তা ছিল ৪৭ শতাংশ। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে এই যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।

জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যে ইরানের ওপর এই হামলা চালিয়ে কোনো লাভ হয়েছে।

ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক আচরণের প্রভাব পড়েছে তার নিজের দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও। জরিপে অংশ নেয়া ৪ হাজার ৫৫৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের বড় একটা অংশই ট্রাম্পের খিটখিটে মেজাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যে ট্রাম্পের মেজাজ শান্ত বা স্থিতিশীল। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ নিয়ে বিভক্তি স্পষ্ট; দলের ৪৬ শতাংশ মানুষই তার মেজাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের সভ্যতা ধুলায় মিশিয়ে দেয়ার হুমকি আর যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করায় পোপ লিওকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার বিষয়টিও ভালোভাবে নেয়নি সাধারণ মানুষ। পোপকে অপরাধ দমনে ‘দুর্বল’ বলে কটাক্ষ করা এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু উড়িয়ে দেয়ার মতো কুরুচিপূর্ণ হুমকির কারণে ট্রাম্পের ব্যক্তিত্বে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

পোপের জনপ্রিয়তা ও ন্যাটো থেকে সরে আসার হুমকি

মজার ব্যাপার হলো, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে পোপ লিও অনেক বেশি জনপ্রিয়। জরিপে দেখা গেছে, যেখানে মাত্র ৩৬ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পকে পছন্দ করেন, সেখানে পোপ লিওর প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন ৬০ শতাংশ মার্কিনি। এমনকি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম বা সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের চেয়েও পোপের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি।

পাশাপাশি, ট্রাম্প বারবার ন্যাটো সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিলেও মাত্র ১৬ শতাংশ আমেরিকান তার এই মতকে সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ন্যাটো মিত্রদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তাতেও মিত্র দেশগুলো বেশ বিচলিত হয়ে পড়েছে।

৫১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, গত এক বছরে ট্রাম্পের মানসিক ক্ষুরধারতা বা তীক্ষ্ণতা আগের চেয়ে কমেছে। এর মধ্যে রিপাবলিকানদের ১৪ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাটদের ৮৫ শতাংশই প্রেসিডেন্টের মানসিক অবস্থা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

ইরানের সাথে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ঠিক আগের দিনগুলোতে এই জরিপ চালানো হয়। দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতা নিয়েও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ চরম পর্যায়ে। মাত্র ২৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন তিনি মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে পারছেন। সব মিলিয়ে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ হয়েছে বলে মনে করেন মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই জরিপের ফলাফল নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র : দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও রয়টার্স