ইসরাইলি বাহিনীর হাতে সমুদ ফ্লোটিলার অপহৃত অন্তত ৮৭ সদস্য আমরণ অনশন শুরু করেছে। এই অনশনের মাধ্যমে ইসরাইলি কারাগারে আটক ৯ হাজার ফিলিস্তিন বন্দীর প্রতি সংহতিও প্রকাশ করছেন অনশনকারীরা।
গাজার ওপর দীর্ঘদিনের অমানবিক অবরোধ ভাঙার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে তুরস্কের মারমারিস বন্দর থেকে ৫০টিরও বেশি জাহাজের এই বহরটি রওনা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক পানিসীমায় হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ গাজাগামী ত্রাণবাহী শেষ জাহাজ ‘লিনা আল-নাবুলসি’ থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ছয়জনকে জোরপূর্বক তুলে নেয় ইসরাইল।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামের আয়োজক সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা জুলুমের বিরুদ্ধেই এই অনশন।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বেশ দম্ভের সাথেই জানিয়েছে, তারা এই ত্রাণবহরের শত শত সদস্যের সবাইকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের এক মুখপাত্র একে সস্তা প্রচারণামূলক কাজ বলে উপহাস করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আরেকটি প্রচারণামূলক ত্রাণবহরের সমাপ্তি ঘটল। ৪৩০ জন সদস্যর সবাইকে ইসরাইলি জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তারা ইসরাইলের দিকে রওনা হয়েছে, যেখানে তারা তাদের কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার সুযোগ পাবেন।’
কিন্তু মাঠের চিত্র ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। সোমবার সাইপ্রাস উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক পানিসীমায় সাধারণ ত্রাণবাহী জাহাজগুলোর ওপর আচমকা চড়াও হয় ইসরাইলি কমান্ডোরা। সেখানে তারা নির্বিচারে রাবার বুলেট ছোড়ে, তল্লাশি চালায় এবং একের পর এক জাহাজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফ্লোটিলার সদস্যদের বন্দী করে।
আটকদের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির বোন ও পেশায় চিকিৎসক মার্গারেট কনলিসহ প্রায় ১৫ জন আইরিশ নাগরিক রয়েছেন। বন্দীদের মধ্যে ৯ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
ইন্দোনেশিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাদের নাগরিকদের দ্রুত মুক্তির দাবি করেছে এবং সব ধরনের কূটনৈতিক চ্যানেল ও কনস্যুলার ব্যবস্থা পুরোপুরি কাজে লাগানোর কথা বলেছে। নিরীহ এই সমাজকর্মীদের ওপর এমন পাশবিক আচরণের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বাংলাদেশ, তুরস্ক, স্পেন, জর্ডান, পাকিস্তান, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কলম্বিয়া, লিবিয়া ও মালদ্বীপ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
কিন্তু বরাবরের মতোই মানবতার এই সঙ্কটেও ইসরাইলের পাশে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উল্টা ফ্লোটিলার সাথে যুক্ত চারজন কর্মীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওয়াশিংটন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এই ত্রাণকর্মীরা নাকি হামাসকে সাহায্য করছিলেন। তবে ইতিহাসে এমন অনশন নতুন নয়। এর আগেও ইসরাইলের হাতে বন্দী হয়ে ফিলিস্তিনপন্থীরা খাবার বর্জন করেছিলেন, এমনকি যুক্তরাজ্যের কারাগারেও ফিলিস্তিনপন্থী বন্দীরা মাসের পর মাস অনশন করে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সূত্র : আল জাজিরা



