লেবাননে চলমান সংঘাতের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরাইলি সেনাবাহিনীর আধুনিক সামরিক ড্রোন হেরন বা ‘হারুন ১’ ড্রোনকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করেছে হিজবুল্লাহ।
ইরানের সরকারী বার্তা সংস্থা ইরনা আজ রোববার (১৪ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, লেবাননের বেকা অঞ্চলের নাহলা শহরের আকাশে প্রায় সাত কিলোমিটার উচ্চতায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ড্রোনটির গতিবিধি শনাক্ত করে এবং পরে একটি বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সেটিকে নিখুঁত নিশানা বানায়। হিজবুল্লাহ এই অভিযানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রটির সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ না করলেও একে অত্যন্ত বিশেষায়িত একটি ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওতে ড্রোনটি ভেঙে পড়ার এবং মাটিতে তার ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকার দৃশ্য বিভিন্ন কোণ থেকে দেখানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী এই বড় ধাক্কার খবরটি ধামাচাপা দিতে সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে।
ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি অত্যাধুনিক ও কৌশলগত এই ড্রোনের দাম প্রায় এক কোটি মার্কিন ডলার। এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ড্রোন টানা সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা আকাশে উড়তে পারে এবং ১০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা রাখে।
ইসরাইলি বাহিনী এই ড্রোনে বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলো ও ইলেকট্রনিক তরঙ্গের সমন্বয়ে কাজ করা বিশেষ সেন্সর, যা দিয়ে গভীর রাতে বা যেকোনো আবহাওয়ায় পরিষ্কার ছবি ও ভিডিও নিখুঁতভাবে ধারণ করা যায়। সেই সাথে যুক্ত রয়েছে মাল্টি-টার্গেট ট্র্যাকিং সিস্টেম, যার মাধ্যমে একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর কড়া নজরদারি চালানো সম্ভব। এছাড়া এর শক্তিশালী এলিন্ট-কমিন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের কারণে এটি শত্রুপক্ষের যেকোনো গোপন যোগাযোগ ও রাডার সংকেত সহজেই ধরে ফেলতে পারে। চারটি নিখুঁত ও দূরনিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এই ড্রোনটি মূলত ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে যেকোনো গতিশীল লক্ষ্যবস্তুর ওপর নজর রাখতে এবং পদাতিক বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে সাহায্য করার মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশন পরিচালনা করে আসছিল।
সূত্র: ইরনা



