সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের সময়কার ট্রেজারি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল ক্রেগ রবার্টস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধগুলো আসলে ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ বা ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পেরই একটি সরাসরি অংশ। মধ্যপ্রাচ্যে এখন যে উত্তাল পরিস্থিতি আর ইরানের সাথে সঙ্ঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে, তাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ভাবলে ভুল হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রবার্টস মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান ইস্যুতে তেহরানের মুখোমুখি অবস্থানে ঠেলে দিতে পেরেছে ইসরাইল, যা আগের অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে তারা করে উঠতে পারেনি। তার মতে, একবিংশ শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যের যত যুদ্ধ হয়েছে, তার মূলে রয়েছে ইসরাইলি ভূখণ্ডের সীমানা বাড়ানোর এই গোপন অ্যাজেন্ডা। এই সঙ্ঘাত শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জ্বালানি খাত ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে।
পল ক্রেগ রবার্টস একটি রাজনৈতিক পডকাস্টে অংশ নিয়ে বলেন, বর্তমান এই অস্থিরতাকে বুঝতে হলে বৃহত্তর ইসরাইলের ধারণাটি বোঝা খুব জরুরি। মজার ব্যাপার হলো, ইরান কিংবা মুসলিম বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার সময় সরাসরি ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রসঙ্গের কথা খুব একটা তোলে না।
কিন্তু রবার্টস বিশ্বাস করেন, পুরো অঞ্চলের যুদ্ধের মূল কারণ আসলে এটাই। পর্দার আড়ালে ইসরাইল তার সীমানা বাড়ানোর যে পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, ইরান সেই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই বাধাকে সরাতেই মার্কিন শক্তিকে ব্যবহার করে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে রবার্টস আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করানো ইসরাইলের জন্য সহজ হয়েছে। ইসরাইলি নেতৃত্ব মার্কিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে যে ট্রাম্প সরাসরি ইরানের সাথে সঙ্ঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। এটি ইসরাইলের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয়।
তেল আবিব দীর্ঘদিন ধরেই চাইছিল ওয়াশিংটন যেন তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাদের সেই ইচ্ছারই প্রতিফলন।
রবার্টসের মতে, একবিংশ শতাব্দীতে মধ্যপ্রাচ্যে যতগুলো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে, সেগুলোর পেছনের কলকাঠি নাড়ছে এই ‘গ্রেটার ইসরাইল’ তৈরির চিন্তা। এই আগ্রাসী নীতির ফলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে, তার রেশ গিয়ে ঠেকছে বিশ্ববাজারে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা বর্তমানে বিশ্ব দেখছে, তা মূলত এই ভূ-রাজনৈতিক চালেরই ফল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই সঙ্ঘাতের দায়ভার পুরো বিশ্বকেই বইতে হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক আসলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত ছক ছাড়া আর কিছুই নয়।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর



