মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের উত্তেজনা নতুন করে সংঘাতে রূপ নিলে তেলআবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন দশ থেকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে তেহরান। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৯ মে) এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জেরুজালেম পোস্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে ইরান শত্রুপক্ষকে কড়া জবাব দিতে এবং তাদের কৌশলগত হিসাব-নিকাশ ভেঙে দিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পথ বেছে নিতে পারে।
জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের ইরানি নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ হামিদ রেজা আজিজি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের ধরন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধের চেয়ে ভিন্ন হবে।
তিনি জানান, আগের সংঘাতে ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সীমিত পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। তবে এবার তেহরান “সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত তীব্র” যুদ্ধকৌশল গ্রহণ করতে পারে। কারণ সমন্বিত ও ভারী হামলার মুখে নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষা করাই তখন ইরানের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর “খুব ভালো সম্ভাবনা” রয়েছে।
এর আগে সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা তাকে আপাতত ইরানের ওপর হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার হামলা চালানোর পরিকল্পনাও ছিল।
তেলক্ষেত্র ও সমুদ্রবন্দরেও হামলার আশঙ্কা
হামিদ রেজা আজিজির মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও সমুদ্রবন্দরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, শুধু হরমুজ প্রণালী নয়, বাব আল-মান্দাব প্রণালীকেও কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে ইরান। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একই সাথে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক ফ্রন্ট সামাল দিতে হবে।
লোহিত সাগরের সাথে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দাব প্রণালীকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরই মধ্যে ইয়েমেনে সক্রিয় হুতি যোদ্ধারা ওই অঞ্চলে একাধিক হামলা চালিয়েছে।
ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইনবাল নাসিম-লুভটন জেরুজালেম পোস্টকে বলেন, হাউছিরা বাব আল-মান্দাব প্রণালী অবরুদ্ধ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় উপসাগরীয় দেশগুলো অনেক ক্ষেত্রে ইরানের হামলার জবাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থেকেছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও জেরুজালেম পোস্ট।



