তেহরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা (কেএসএস) নেতার তথ্যের জন্য এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। ওয়াশিংটন এটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে মার্কিন কর্মকর্তারা জানায়, কেএসএস নেতা হাশিম ফিনইয়ান রাহিম আল-সারাজি সম্পর্কে তথ্য খোঁজা হচ্ছে। তিনি আবু আলা আল-ওয়ালাই নামেও পরিচিত।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই গোষ্ঠী ইরাকি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে। একই সাথে দেশটিতে অবস্থিত কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের ওপরও হামলা করেছে।
পোস্টে আরো উল্লেখ করা হয়, আল-সারাজির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিলে পুরস্কারের পাশাপাশি পুনর্বাসনের সুযোগও মিলতে পারে।
আল-সারাজি ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর সদস্য। জোটটি ইরাকের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া জোট হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছে।
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকের রাজধানীতে মার্কিন দূতাবাস, বাগদাদ বিমানবন্দরের কূটনৈতিক ও লজিস্টিক স্থাপনা এবং বিদেশি কোম্পানির পরিচালিত তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর সম্প্রতি ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয় এবং ইরাকও তাতে জড়িয়ে পড়ে।
চলতি মাসের শুরুতে প্রভাবশালী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর নেতার তথ্য পেতেও একই ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এই গোষ্ঠী গত মাসে মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে অপহরণ করে। এক সপ্তাহ আটকে রাখার পর তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
মার্কিন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাগদাদের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। এ লক্ষ্যে নগদ অর্থ পাঠানো স্থগিত এবং নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। সূত্র : বাসস



