একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছেন, আর ঠিক অন্যদিকে তেহরান সরকারের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার লড়াইয়ে এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লব সফল হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে একতরফাভাবে দেশটির ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আসছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের শাসনামলে এই নিষেধাজ্ঞা যেন এক চরম রূপ ধারণ করেছে। আজকের এ পদক্ষেপ সেই ধারাবাহিক চাপের সর্বশেষ উদাহরণ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ দফতরের ‘অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’ বা ওফাক জানিয়েছে, তারা ইরান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মোট ১৪ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং উড়োজাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
ইরান সরকারের হয়ে অস্ত্র বা অস্ত্রের সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ এবং সেগুলো পরিবহনে ভূমিকা রাখার দায়ে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ব্যবহারিক দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বেশ সুদূরপ্রসারী। এখন থেকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পদ যদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকে অথবা কোনো মার্কিনদের দখলে থাকে, তবে তা পুরোপুরি অবরুদ্ধ বা ব্লক করে দেয়া হবে। এমনকি তাদের মালিকানায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি অংশীদারিত্ব আছে, এমন যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিষয়টি এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারকে জানাতে হবে।
শুধু মার্কিন নাগরিকরাই নন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে আছেন বা ট্রানজিটে দেশটি পার হচ্ছেন, এমন যেকোনো বিদেশী নাগরিকও এই তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবেন না।
মার্কিন সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির সক্ষমতা নতুন করে সাজাতে কাজ করে আসছিল।
এর আগে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের এই সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই পুরো উদ্যোগ মূলত ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামের এক বিশাল পরিকল্পনার অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতির বাজার থেকে ইরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।
মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, এই ধরনের প্রবল চাপের মুখে পড়ে ইরান শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পছন্দসই একটি চুক্তিতে আসতে বাধ্য হবে।
সূত্র: বিবিসি



