মার্কিন-ইসরাইলের হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতাবা হোসাইনি খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে দেশটির বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই সিদ্ধান্তে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর চাপ ছিল।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি একজন প্রভাবশালী কিন্তু লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা ব্যক্তিত্ব। গত শনিবার মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় পিতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তার নাম জোরেশোরে আলোচনায় আসে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকেই নেতা বানানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাদের যুক্তি, বর্তমান সংকটময় সময়ে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও নিরাপত্তা অভিজ্ঞতা মোজতবার রয়েছে।
তেহরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেহেদী রহমতির মতে, 'মোজতবা বর্তমানে সবচেয়ে বিজ্ঞ পছন্দ, কারণ তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক অবকাঠামো পরিচালনার বিষয়ে গভীরভাবে পরিচিত। তিনি ইতোমধ্যে এসবের দায়িত্বে ছিলেন।' তবে রহমতি সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্তে সবাই সন্তুষ্ট হবে না। জনসাধারণের একটি অংশ এর তীব্র বিরোধিতা করতে পারে এবং এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আমেরিকা ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এখনও নিজেদের সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্র তারা ব্যবহার করেনি বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ইসরাইল ও মার্কিনিদের বিরুদ্ধে তারা দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) গরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালিনিকের বরাত দিয়ে বলেছে, এই চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের জবাব শত্রুদের কল্পনার চেয়েও বেশি সময় ধরে দেয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, একদম শুরুতেই সব আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করার ইচ্ছা আমাদের নেই।
৮৬ বছর বয়সী খামেনিকে লক্ষ্য করে গত শনিবার সকালে হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল



