সিরিয়ায় আসাদ ও তার সহযোগীদের বিচার কার্যক্রম শুরু

আসাদ ও তার ভাই মাহের আল-আসাদ সিরিয়া থেকে পালিয়ে গেছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার হবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত শাসক বাশার আল-আসাদ
সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত শাসক বাশার আল-আসাদ |সংগৃহীত

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত শাসক বাশার আল-আসাদ ও তার সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রমের প্রথম শুনানি রোববার অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন আদালতে সরাসরি হাজির ছিলেন।

আসাদ ও তার ভাই মাহের আল-আসাদ সিরিয়া থেকে পালিয়ে গেছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার হবে। তবে তাদের এক আত্মীয় ও সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবকে হাতকড়া পরা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়।

দামেস্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুনানি শুরু করে বিচারক ফখর আল-দীন আল-আরিয়ান বলেন, ‘আজ আমরা সিরিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন বিচার প্রক্রিয়ার প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু করছি।’

তিনি বলেন, ‘এতে হেফাজতে থাকা এবং আদালতে উপস্থিত একজন আসামির পাশাপাশি বিচার থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিচারিক সূত্র এএফপিকে জানায়, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে আসাদ, তার ভাই এবং নাজিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর প্রস্তুতি শুরু হলো।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আসাদ সরকারের পতনের পর গ্রেফতার হওয়া নাজিবকে দামেস্কের আদালতে ডোরাকাটা কারাবন্দির পোশাকে হাজির করা হয়।

তিনি এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশে সিরিয়ার রাজনৈতিক নিরাপত্তা শাখার প্রধান ছিলেন। ২০১১ সালে ওই দারাতেই সিরিয়ার গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে সেখানে ব্যাপক দমন-পীড়ন ও গ্রেফতার অভিযানের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী নেতৃত্বাধীন বাহিনী দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেলে আসাদ মস্কোতে পালিয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে তার পরিবারের পাঁচ দশকের বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে।

রোববারের শুনানিতে বিচারক নাজিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। শুনানিটি ‘প্রস্তুতিমূলক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া’ নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল। বিচারক আগামী ১০ মে দ্বিতীয় শুনানির তারিখ ঘোষণা করেন।

বিচারিক সূত্রটি জানায়, সরাসরি উপস্থিত থেকে যাদের বিচার হবে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের আরেক আত্মীয় ওয়াসিম আল-আসাদ, সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বদরুদ্দিন হাসসুন এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নতুন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেফতার হওয়া সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

সূত্র : এএফপি/বাসস