ইরানে ফের মার্কিন হামলা, যুদ্ধবিরতি কী টিকবে ?

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য “আত্মরক্ষামূলক হামলা” চালানো হয়েছে। তবে হামলার স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনা চলার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীর কাছে নতুন করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য “আত্মরক্ষামূলক হামলা” চালানো হয়েছে। তবে হামলার স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এলাকাটি হরমুজ প্রণালী থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও স্থায়ী শান্তি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও তেলের দাম বেড়েছে।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি এখনো আসন্ন নয়।

কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র
সেন্টকমের মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন পাতার চেষ্টাকারী ইরানি নৌযান।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালী যেকোনো মূল্যে উন্মুক্ত রাখতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরান প্রণালীতে মাইন পেতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে হুমকি তৈরি করছে।

রুবিও আরো বলেন, ইরানের সাথে চুক্তি নিয়ে আলোচনা আরও কয়েক দিন চলতে পারে। এতে দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তির আশা কিছুটা ম্লান হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে বলেন, ইরানের সাথে আলোচনা “ভালোভাবেই গোচ্ছে”। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আরো বড় হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

ইরানের প্রতিক্রিয়া
বন্দর আব্বাসে হামলার বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিলেও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

আইআরজিসি আরো দাবি করে, একটি আরকিউ-৪ ড্রোন ও একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ওপরও গুলি চালানো হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথাও জানানো হয়েছে।

ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় আইআরজিসির কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।

কূটনৈতিক তৎপরতা
যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনা করতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছেছে।

একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির চীন সফরে রয়েছেন। সেখানে তারা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সাথে বৈঠক করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন চীনকে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।

শান্তি আলোচনা কি হুমকির মুখে?
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ মার্কিন হামলা সীমিত হলেও তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, হামলাগুলো সীমিত পরিসরে হলেও ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার ওপর ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

অন্যদিকে সিএসআইএসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান মনে করেন, হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে শান্তি আলোচনা ব্যাহত হতে পারে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে সাম্প্রতিক হামলা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

সূত্র : আল জাজিরা