ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘ সঙ্ঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বুধবার দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এই খবর জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউজ মনে করছে, তারা যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে এবং পরমাণু আলোচনার একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরিতে তেহরানের সাথে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। সূত্র হিসেবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের খ্যাতনামা ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
সমঝোতার শর্ত ও তেলের বাজারে প্রভাব অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য চুক্তির মূল শর্ত হলো উভয়পক্ষই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এছাড়া ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং তেহরানের জব্দ করা শত শত কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের চূড়ান্ত জবাব আশা করছে। এই খবরের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়েছে এবং প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ পাহারার বিশেষ সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ তিনি সাময়িকভাবে স্থগিত করছেন। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, পাকিস্তানের অনুরোধ এবং ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে চূড়ান্ত চুক্তির পথে অভাবনীয় অগ্রগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করেছেন, চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ বহাল থাকবে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল আটকা পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদ বের করে আনা।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের বিশেষ অনুরোধে এই অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা এখনো এগিয়ে চলছে বলে ইরানের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ অস্থিরতার মুখে পড়েছে।
সূত্র : দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন



