ইরান যুদ্ধ ৩ কারণে দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতায় রূপ নিচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের চলমান উত্তেজনা পারমাণবিক কর্মসূচি ও অমীমাংসিত রাজনৈতিক ইস্যুর কারণে দীর্ঘমেয়াদি স্থবির সংঘাতে রূপ নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট’ পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। কিন্তু এই যুদ্ধের মূলে থাকা জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের আলোচনায় কোনো অগ্রগতি নেই। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে- সঙ্ঘাতটি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাচ্ছে?

বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি ‘হিমায়িত বা স্থবির সঙ্ঘাত’ বা ফ্রোজেন কনফ্লিক্ট হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।

স্থবির সঙ্ঘাত মানে যুদ্ধ একদম থেমে যাওয়া নয়, বরং একটি অমীমাংসিত লড়াই যা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ না নিলেও ধিকিধিকি জ্বলতে থাকে। যেমনটা আমরা ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউক্রেনে দেখেছিলাম। সেখানে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হলেও সঙ্ঘাতটি বড় কোনো রূপ নেয়নি।

চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা নতুন করে শুরু হলেও তিনটি জোরাল কারণে ধারণা করা হচ্ছে যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতার দিকেই এগোচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য।

যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এই সঙ্ঘাতের মূলে থাকা মূল বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে হাঁটছে না। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার কারণ ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিতে চায়নি। ইরান মনে করে, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার তাদের আছে। এর আগে ২০১৫ সালের চুক্তিটি সফল হতে ২০ মাস সময় লেগেছিল, যা ট্রাম্প পরে বাতিল করে দেন। এই অমীমাংসিত ঝামেলার দ্রুত কোনো শেষ হওয়ার লক্ষণ নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই লড়াই হয়ত কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হবে, কিন্তু এর অস্থিরতা রয়েই যাবে। এটি অনেকটা গাজার পরিস্থিতির মতো। সেখানে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে বন্দী বিনিময় বা ত্রাণ সহায়তা বাড়লেও গাজার শাসনভার বা হামাস নিয়ে পশ্চিমের দৃষ্টিভঙ্গির মতো কঠিন প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত। ফলে ইসরাইল তাদের সৈন্য সরায়নি এবং মাঝেমধ্যেই সহিংসতা ঘটছে।

ঐতিহাসিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পরিস্থিতিও একই রকম, যারা ১৯৫৩ সাল থেকে কাগজে-কলমে এখনো যুদ্ধাবস্থায় আছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের এই স্থবির সঙ্ঘাত মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি করবে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আবারো বড় ধরনের সঙ্ঘাতের ঝুঁকি থেকেই যাবে।

সূত্র : কনভারসেশন