গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আরব সাগরে আটকে পড়া একটি ভারতীয় জাহাজের বিপদ সংকেতে সাড়া দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনী জাহাজটির নাবিকদের খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এমভি গৌতম নামের জাহাজটি ওমান থেকে ভারতে আসার পথে গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়ে সমুদ্রে আটকা পড়ে।
মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন সেন্টার ইসলামাবাদে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সহায়তা চাওয়ার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী ছয়জন ভারতীয় ও একজন ইন্দোনেশীয় নাবিকদের জন্য একটি উদ্ধার ও সহায়তা অভিযান শুরু করে।
এই অনুরোধের জবাবে পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালানোর জন্য পিএমএসএস কাশ্মির নামের জাহাজটি মোতায়েন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে স্থিতিশীল করতে এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমভি গৌতমের নাবিকদের খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাসহ জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জানা গেছে, এই উদ্ধার ও সহায়তা অভিযানে নৌবাহিনীকে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি অ্যাজেন্সি (পিএমএসএ) সহায়তা করেছে।
গালফ টাইমস উদ্ধার অভিযানের ভিডিওটি সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছে। যেখানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি নৌকাকে এমভি গৌতমের নাবিকদের সাহায্য করতে দেখা যায়।
গত মাসে পাকিস্তান জানিয়েছিল, একটি বিপদ সংকেতের পর তাদের নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে চলাচলরত একটি বাণিজ্যিক জাহাজের ১৮ জন নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।
এই অভিযান নিয়ে ভারত যা বলেছে
৪ মে রাত ১১টা ২২ মিনিটে গান্ধীনগরে অবস্থিত ভারতীয় কোস্ট গার্ডের (আইসিজি) আঞ্চলিক সদর দফতরকে এমভি গৌতম সম্পর্কিত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছিল।
জেনারেটরের ত্রুটির কারণে ৩ মে জাহাজটিতে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার সময় জাহাজটি পাকিস্তানের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অঞ্চলের (এসআরআর) মধ্যে অবস্থিত ছিল।
মুম্বাইয়ের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে তথ্যটি জানায়। এরপরে, জাহাজটি গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ নট গতিতে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। ৪ মে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে জাহাজটি ভারতীয় এসআরআরের মধ্যে দ্বারকা বাতিঘর থেকে প্রায় ২৬২ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি অবস্থানে ভেসে গিয়েছিল।
সূত্র : এনডিটিভি



