বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বেইজিং

বেইজিং এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের সফরের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় চীন এখন এমন এক শক্তি, যাকে ছাড়া বড় বৈশ্বিক সমাধান সম্ভব নয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

এক সপ্তাহের মধ্যে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের পর পর সফর বেইজিংকে বৈশ্বিক কূটনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরেই, ১৯ থেকে ২০ মে চীন সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী ইতিহাসে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোনো একটি দেশে মার্কিন ও রুশ নেতার এমন পর পর সফর অত্যন্ত বিরল ঘটনা।

সোমবার চীনের রাষ্ট্রীয় ইংরেজি দৈনিক গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে বিশ্বনেতারা এখন বেইজিংমুখী। এর আগে গত ডিসেম্বরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীন সফর করেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন সঙ্কট বা ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র বিরোধ থাকলেও উভয় দেশই বেইজিংকে তাদের জন্য একটি ‘অবশ্যই শিক্ষণীয় ও পরিদর্শনের’ জায়গা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের চার স্থায়ী সদস্য দেশের এমন আগ্রহ প্রমাণ করে যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জলবায়ু বা আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক বিষয়ে চীনকে ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার তিন দিনের চীন সফরকে ‘দারুণ সফল’ ও ‘অবিস্মরণীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, দু’দেশের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরো ভালো হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই স্থিতিশীল সম্পর্ক বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

ট্রাম্পের এই সফরে চীনের বোয়িং বিমান কেনা, মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানো এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বোর্ড গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই শীর্ষ সম্মেলনের লক্ষ্য দীর্ঘদিনের অনাস্থা দূর করা নয়, বরং দু’দেশের সম্পর্কে আকস্মিক উত্তেজনা এড়ানো।

ট্রাম্পের বিদায়ের পরপরই পুতিনের এই আগমন চীন-রাশিয়া কৌশলগত সম্পর্ককে আরো গতিশীল করবে। দু’দেশের বাণিজ্য ইতোমধ্যে বছরে ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই সম্পর্ককে ‘ঝড়-বৃষ্টিতেও পাহাড়ের মতো অটল’ বলে বর্ণনা করেছেন।

পুতিনের সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হবে এবং বেশ কিছু চুক্তি সই হবে। বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তনের মাঝেও চীন ও রাশিয়ার এই সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

সূত্র : গ্লোবাল টাইমস