উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত প্রতিরক্ষাকে আরো শক্তিশালী করার নির্দেশ কিমের

কিম জং উন দেশটির সামরিক বাহিনীকে দক্ষিণ সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করা ও সামনের সারির ইউনিটগুলোকে আরো শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, আধুনিক ড্রোন, সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই নতুন সামরিক কৌশল সাজানো হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কিম জং উন
কিম জং উন |সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের দক্ষিণ সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করার এবং একইসাথে সামনের সারির সেনা ইউনিটগুলোকে আরো শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক সামরিক বৈঠকে কিম জং উন এ নির্দেশ দেন।

কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ অ্যাজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত একটি ছবিতে তাকে পূর্ণ সামরিক পোশাক পরিহিত শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করতে দেখা যায়।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক কর্মকর্তাদের বলেন, যুদ্ধ প্রতিরোধে ‘বড় ধরনের পরিবর্তন’ আনা হবে। একইসাথে তিনি কমান্ডিং কর্মকর্তাদের ‘প্রধান শত্রু’ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি আরো কঠোর ও স্পষ্ট করার নির্দেশ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, এখানে ‘প্রধান শত্রু’ বলতে দক্ষিণ কোরিয়াকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

কেসিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ প্রতিরোধকে আরো কার্যকর করতে সামনের সারির ইউনিট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন কিম জং উন।

তিনি এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

কিম জং উন আরো বলেন, দক্ষিণ সীমান্তে সামনের সারির ইউনিটগুলোকে আরো শক্তিশালী করে সীমান্তকে ‘অভেদ্য দুর্গে’ রূপান্তর করা হবে।

কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হং মিন বলেন, কিম জং উনের এই নির্দেশনায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া সামরিক শিক্ষার প্রতিফলন রয়েছে।

ওই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সেনা পাঠিয়ে মস্কোকে সহায়তা করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘এই বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্ঘাতে দেখা ড্রোন যুদ্ধ, নির্ভুল হামলা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও বহু-মাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রের বিষয়গুলো এখন উত্তর কোরিয়ার সামরিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

হং মিন আরো বলেন, কিমের পরিকল্পনায় স্থল, নৌ ও আকাশসীমার বাইরে পানির নিচে, মহাকাশ, সাইবার ও ইলেকট্রনিক ক্ষেত্রকেও যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র : বাসস