আমরা হারিনি, পদত্যাগে অস্বীকৃতি মমতার

পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্নই ওঠে না।”

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কলকাতার কালীঘাটে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতার কালীঘাটে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় |সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার (৫ মে) কলকাতার কালীঘাটে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অবস্থান জানান।

পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মমতা বলেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরো বলেন, “স্বাভাবিকভাবে হার-জিত থাকতেই পারে। কিন্তু এখানে তা হয়নি। আমরা হারিনি, ভোট লুট হয়েছে।”

ভোট গণনাকেন্দ্রে তার দলের প্রতিনিধিদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে আমার এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সিসিটিভি বন্ধ রেখে ভেতরে মারধর করা হয়েছে।”

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মমতা বলেন, “নারী হিসেবে আমি অপমানিত। আমার সঙ্গেই যদি এমন হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা—তা সহজেই বোঝা যায়।”

তিনি জানান, দলীয় কর্মীদের পাশে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে এবং তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াবে।

বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান মমতা। তিনি বলেন, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, উদ্ধব ঠাকরে, অখিলেশ যাদব ও হেমন্ত সোরেন ফোন করে সমর্থন ও সংহতি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “জোট আগামী দিনে আরো শক্তিশালী হবে। সবাই পাশে থাকবেন, আমরা একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাব।”

সংবাদ সম্মেলনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।