থাইল্যান্ডে এক বৌদ্ধ ধর্মীয় শোভাযাত্রায় একটি পিকআপ ট্রাক ঢুকে পড়ার ঘটনায় নিহত ভিক্ষুর সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে শুক্রবার (৩ জুলাই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দেশটির ১১ বছর বয়সী এক কিশোর ওই ট্রাকটি চালাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
স্থানীয় মুকদাহান হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনার পর আরো ১০ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মুকদাহান প্রদেশে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তখন ৩৫ জন ভিক্ষু এবং পাঁচজন সাধারণ অনুসারী একটি তীর্থযাত্রার অংশ হিসেবে রাস্তার পাশে হাঁটছিলেন। এ সময় একটি ট্রাক তাদেরকে ধাক্কা দেয়।
পুলিশ জানায়, ট্রাক চালাচ্ছিল ১১ বছর বয়সী একটি বালক। সে তার বাবা-মায়ের গাড়ি অনুমতি ছাড়া নিয়ে চালাচ্ছিল।
দুর্ঘটনাস্থলেই পাঁচজন ভিক্ষু নিহত হন। পরে হাসপাতালে আরো পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
মুকদাহান সিটি পুলিশের প্রধান প্রযুত রুয়াংথংকাম জানান, ওই কিশোর এখনো পুলিশের কাছে কোনো জবানবন্দি দিতে সক্ষম হয়নি। তাকে শিশু কল্যাণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে এবং তার সাথে তার মা রয়েছেন।
থাইল্যান্ডে ১২ বছরের কম বয়সীদের কোনো ফৌজদারি দায়বদ্ধতা নেই। পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে বেঁচে থাকা ভিক্ষুদের কাছ থেকেও সাক্ষ্য নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র এবং তারা বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা সংরক্ষণ ও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তারা প্রায়ই ধর্মীয় শোভাযাত্রা পরিচালনা করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে শুভেচ্ছাসূচক দান গ্রহণ করেন।
মুকদাহানের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মন্দির ওয়াট রোই ফ্রা ফুত্থাবাত ফু মনোরোমের একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ও আহত ভিক্ষুদের পাশাপাশি অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মন্দিরে আশ্রয় দেয়া হয়েছে।
সূত্র: বাসস



