লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর সস্তা ড্রোনের হামলার মুখে ইসরাইলি বাহিনী অসহায় অবস্থায় পড়েছে। এ অবস্থায় তেল আবিবের সমরনীতি শুধু অকেজো নয়, বরং তছনছ হয়ে গেছে।
ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি জর্ডানি লেখক জিয়াদ ফারহান আল-মাজালির একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।
দৈনিক রাই আল-ইউওমে লেখা ওই নিবন্ধে তিনি দেখিয়েছেন, লেবানন সীমান্তের লড়াই এখন আর কেবল ভারী ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এখন ‘সস্তা অস্ত্রের যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে।
হিজবুল্লাহর ছোট ছোট ও নিখুঁত সব ড্রোন এখন ইসরাইলের প্রধান শক্তি বা প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। বিশেষ করে ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির ড্রোনগুলো ইসরাইলের ইলেকট্রনিক যুদ্ধপদ্ধতিকে অকেজো করে দিয়েছে। যেহেতু এই ড্রোন রেডিও তরঙ্গের বদলে তারের মাধ্যমে চলে, তাই ইসরাইলের জ্যামিং সিস্টেম এখানে কোনো কাজ করতে পারে না। পাশাপাশি এর মাধ্যমে ড্রোনচালক বা অপারেটরের কাছে অবিলম্বে যুদ্ধকবলিত এলাকার নিখুঁত ছবি পৌঁছে যায়।
ইসরাইলের সমরনীতি ও খরচের অঙ্কে বড় ধাক্কা
হিজবুল্লাহর এ নতুন ড্রোন কৌশলটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যা পুরোদমে যুদ্ধ শুরু না করেও ইসরাইলি বাহিনীকে স্থায়ীভাবে ব্যস্ত, ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে রাখছে। লেবানন সীমান্তে মোতায়েন করা ইসরাইলি সেনারা এখন এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে পারছেন না। হিজবুল্লাহ এখানে মূলত তেল আবিবের জন্য যুদ্ধের খরচের হিসাবটিই ওলটপালট করে দিয়েছে।
তুলনামূলক সস্তা ড্রোন সামলাতে গিয়ে যখন ইসরাইলকে লাখ লাখ ডলারের দামী প্রযুক্তি ও সম্পদ খরচ করতে হচ্ছে, তখন সেই প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব উল্টো ওই বিশাল বাহিনীর জন্য বড় আর্থিক ও মানসিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সীমান্তে নিরাপত্তাহীনতা ও শক্তির নতুন সংজ্ঞা
মাঠের লড়াইয়ে ক্ষয়ক্ষতির চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বার্তা। হিজবুল্লাহর কমান্ডারদের হত্যা বা প্রবল চাপ দিয়েও যে তাদের দমানো যায়নি, এই ড্রোনগুলো তারই বড় প্রমাণ। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের সামরিক শক্তিকে নতুন করে গড়ে তুলছে এবং ইসরাইলের সীমান্তকে অনিরাপদ করার নতুন নতুন উপায় বের করছে।
জিয়াদ ফারহান আল-মাজালি মনে করেন, আধুনিক যুগে সামরিক শক্তির সংজ্ঞাই এখন বদলে গেছে। বড় সেনাবাহিনী মানেই সবসময় বিজয়ী হওয়া নয়, বরং চিকন তার ও ছোট যন্ত্র দিয়ে যারা উন্নত বাহিনীর স্নায়ু আর মনোযোগ তছনছ করতে পারে, যুদ্ধের মাঠে শেষ পর্যন্ত তাদের নিয়মই চলে। এর ফলে সীমান্তের ওপারে ইসরাইলের উপস্থিতিও এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি



