আরব আমিরাতে মোতায়েন করা হলো ইসরাইলের ‘আয়রন ডোম’

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন করা হয়েছে ইসরাইলের আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকা |সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পালাবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এবং এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন করা হয়েছে ইসরাইলের আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’।

জানা গেছে, ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ সরাসরি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে যোগাযোগ করেন। সেই আলোচনার সূত্র ধরেই ইসরাইল শুধু তাদের অত্যাধুনিক অস্ত্রই পাঠায়নি, বরং সেই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য বিশেষ সামরিক কর্মকর্তাদেরও আবুধাবিতে পাঠিয়েছে।

তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির বিশ্লেষণে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, মুসলিম বিশ্বের সাধারণ মানুষের আবেগকে পাশ কাটিয়ে আমিরাতের শাসকরা ইসরাইলি তথা জায়নিস্ট শক্তির সাথে এক গভীর সামরিক সমীকরণে জড়িয়ে পড়েছেন।

সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, মার্কিন-ইসরাইল অক্ষশক্তির হয়ে আমিরাত পরোক্ষভাবে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধের শুরুর দিকেই ইসরাইল তাদের এই আয়রন ডোম ব্যাটারি ও অপারেটরদের আমিরাতে পাঠায়, যা ইসরাইলি সামরিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে ইসরাইল কখনো তাদের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য এভাবে বিদেশে পাঠায়নি।

সংবাদ মাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, ইরানের ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় দুই হাজার ২০০টি ড্রোনের হামলা সামলাতে আবুধাবি হিমশিম খাচ্ছিল। যদিও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা অনেকগুলো আক্রমণ রুখে দিয়েছিল, কিন্তু বেশ কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানায় আমিরাত নেতৃত্ব উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়েই ইসরাইলি ‘আয়রন ডোম’ এসে বেশ কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে আমিরাতকে সুরক্ষা দেয়।

তবে তেহরান মনে করছে, আমিরাতের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংহতির পরিপন্থী। ইরানের দৃষ্টিতে, নিজ দেশে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে আমিরাত মূলত এই অঞ্চলে ইসরাইলকে শক্তিশালী করছে।

অন্যদিকে, আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন ইসরাইলকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করছেন। তারা বলছেন, বিপদের সময় কে পাশে থাকে তা এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে। শুধু ইসরাইল নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের সহযোগিতাকেও তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

তবে তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আমিরাত এই সহযোগিতার বিনিময়ে ইরানের ওপর হামলার জন্য ইসরাইলকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, আয়রন ডোম মোতায়েনের এ ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানবিরোধী একটি নতুন ও শক্তিশালী সামরিক মেরুকরণ তৈরি করেছে, যেখানে আরব দেশ আর ইসরাইল এখন একই প্রতিরক্ষা বলয়ের ভেতরে অবস্থান করছে।