গ্লোবাল টাইমস

চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে বুধবার (১৩ মে) বেইজিংয়ে সফরে গিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত অক্টোবরে বুসান বৈঠকের পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি দেখা হলো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা |সংগৃহীত

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে বুধবার (১৩ মে) বেইজিংয়ে সফরে গিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত অক্টোবরে বুসান বৈঠকের পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি দেখা হলো। নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীন সফরে আসায় এই সাক্ষাৎকে ‘ঐতিহাসিক’ বলছে বিশ্ব।

শি ও ট্রাম্প এখন মুখোমুখি বসে দুই দেশের সম্পর্ক ও বিশ্ব শান্তির মতো বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। দুই নেতার এই করমর্দন শুধু একটি সৌজন্য নয়, বরং সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দুই দেশের এই বৈঠকের দিকে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে। কারণ চীন ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে বিশ্বের মোট অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও দুই প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে এই দেশ দু’টির সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকা মানেই পুরো পৃথিবীর জন্য এক বড় ভরসা। বর্তমানের অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বেইজিং থেকে ইতিবাচক কোনো খবরের অপেক্ষায় আছেন সবাই। দুই দেশের এই বন্ধন কেবল নিজেদের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখার প্রধান চাবিকাঠি।

বিশ্ব কেন এত আশাবাদী? এর মূল কারণ হলো দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত কূটনীতি। বছরের পর বছর ধরে নানা ঝড়-ঝাপটা আসলেও শি ও ট্রাম্পের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে পথ হারানো থেকে বাঁচিয়েছে। এখন দুই পক্ষের আলোচনা অনেক বেশি বাস্তবমুখী আর সোজাসাপ্টা। শুল্ক যুদ্ধ বা নানা টানাপোড়েন আসলেও সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমেই সব মিটে যাবে বলে আন্তর্জাতিকমহল বিশ্বাস করে।

গত এক বছরে দুই নেতার নির্দেশেই বাণিজ্য দলগুলো কমপক্ষে সাতবার বৈঠক করেছে, যার ফলে দূরত্ব কমেছে এবং সহযোগিতা প্রসারিত করেছে।

এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিচ্ছেন দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই পৃথিবী এতটাই বড় যে এখানে দুই দেশেরই একসাথে ভালোভাবে চলার জায়গা আছে। একজনের সাফল্য অন্যজনের জন্য বাধা নয়, বরং সুযোগ।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা ছয়বার ফোনে কথা বলেছেন। প্রেসিডেন্ট শি মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই হলো এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র সঠিক রাস্তা।

গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, যখনই দুই নেতার ঐকমত্য ঠিকমতো মানা হয়েছে, তখনই সব বাধা কাটিয়ে সম্পর্ক সামনে এগিয়েছে। ২০২৬ সালে চীন যেমন তাদের ১৫তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু করছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র উদযাপন করবে তাদের স্বাধীনতার ২৫০ বছর। তাই ২০২৬ সালটি দুই দেশের জন্য কেবল বন্ধুত্বের বছর নয়, বরং এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ ভাবনার সাথে চীনের উন্নয়ন কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কৌশলী পথচলা বজায় থাকলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ যে অত্যন্ত উজ্জ্বল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।