ইরান ইস্যুতে উল্টাপাল্টা বক্তব্য ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে বারবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ভেতর বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। তার মন্তব্যগুলোর জন্য হোয়াইট হাউস কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা আর যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একেক সময় একেক রকম বক্তব্যে খোদ হোয়াইট হাউজেই হুলুস্থুল পড়ে গেছে। একদিকে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের যোগ দেয়ার খবর নিশ্চিত করছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প সরাসরি ফোন করে সংবাদমাধ্যমকে বলছেন উল্টা কথা। এমনকি ইরানের সাথে চুক্তির শর্ত, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর আর তেলের দাম নিয়েও ট্রাম্পের অসংলগ্ন দাবি দাবার চালের মতো বারবার পাল্টাতে থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে প্রেসিডেন্টের দেয়া ভুল তথ্য ঢাকতে তার কর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গত রোববার সকালে প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তারা যখন টিভি অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ সফরের কথা বলছেন, ঠিক তখনই ট্রাম্প এবিসি নিউজকে ফোন করে জানান যে নিরাপত্তার কারণে ভ্যান্স সেখানে যাচ্ছেন না।

প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পর হোয়াইট হাউজে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি করে সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্টের দাবি ঠিক নয়, ভ্যান্সই আসলে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

মজার ব্যাপার হলো, সোমবার ট্রাম্প আবার দাবি করেন যে ভ্যান্স আর কুশনার নাকি ইতোমধ্যে বিমানে চেপে পাকিস্তানের পথে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু তার এই দাবির দেড় ঘণ্টার মাথায় দেখা যায় ভ্যান্সের গাড়িবহর খোদ হোয়াইট হাউজেই ঘুরছে। পরে জানানো হয়, তিনি হয়তো মঙ্গলবার রওনা দেবেন।

শুধু সফরসূচি নয়, ইরানের সাথে পরমাণু সমঝোতা নিয়েও ট্রাম্পের কথায় কোনো মিল নেই। কখনো তিনি বলছেন, ইরান সব শর্ত মেনে নিয়েছে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা তার ভাষায় ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। আবার এর পরেই বলছেন, ২০ বছরের মেয়াদি কোনো চুক্তি তার পছন্দ নয়।

হরমুজ প্রণালী নিয়েও তার দাবি অদ্ভুত। একবার বলছেন, ইরান সমুদ্রপথ খোলা রাখতে রাজি হয়েছে, আবার পরক্ষণেই বলছেন, অবরোধের কারণে ওটা আগে থেকেই বন্ধ।

এমনকি তেলের দাম নিয়েও তিনি নিজের জ্বালানি সচিবের সাথে দ্বিমত পোষণ করছেন। সচিব যেখানে বলছেন, ২০২৭ সালের আগে দাম কমবে না। ট্রাম্প সেখানে বুক ঠুকে বলছেন, যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম পানির দরে নেমে আসবে।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন এখন মার্কিন প্রশাসনের জন্য বড় গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট