ইরান যুদ্ধ আর ঘড়ির কাঁটার লড়াই ট্রাম্পের

ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার মুখে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের চাপে রয়েছেন- শান্তি চুক্তি, কংগ্রেসের অনুমতি নিয়ে যুদ্ধ চালানো, অথবা আইন উপেক্ষা করা- এই তিন পথ খোলা। তার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিক।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প |সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে ইরানের সাথে যুদ্ধ, অন্যদিকে মাথার ওপর ঝুলছে কড়া সময়সীমা। আগামী ১ মে তারিখটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্য ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’ বা এমন এক মুহূর্ত হতে চলেছে যেখান থেকে ফেরার পথ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রেসিডেন্ট টানা ৬০ দিনের বেশি সামরিক অভিযান চালাতে পারেন না। ট্রাম্পের হাতে এখন সেই সময় ঘনিয়ে আসছে। এখন প্রশ্ন, তিনি কি শান্তির পথে হাঁটবেন, নাকি আইনকে ‍বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যুদ্ধের ডামাডোল বাজিয়েই যাবেন?

এই জটিল সমীকরণগুলোই সহজ করে তুলে ধরেছেন এনডিটিভির সিনিয়র এডিটর চন্দ্রশেখর শ্রীনিবাসন। তিনি গোটা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন। রাজনীতি, অর্থনীতি আর সমাজতত্ত্বের ছাত্র শ্রীনিবাসন গত ১৫ বছরের বেশি ধরে সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত এবং বিশ্ব রাজনীতির এই মারপ্যাঁচ তিনি সহজভাবে তুলে ধরেছেন।

ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের পরিকল্পনা মতো এগোচ্ছে না, যদিও তিনি মুখে সেটা স্বীকার করতে রাজি নন। ১ মে’র পর কংগ্রেসের সবুজ সংকেত ছাড়া সামরিক ব্যবস্থা নেয়াটা হবে বেআইনি। ট্রাম্পের সামনে এখন তিন রাস্তা খোলা- হয় একটি শান্তি চুক্তি করা, নয়তো লড়াইয়ের জন্য বাড়তি সময় চেয়ে নেয়া, আর না হলে সব আইনকানুন অগ্রাহ্য করে নিজের জেদ বজায় রাখা। তবে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতার কারণে এই পথগুলো মোটেও মসৃণ নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবরোধ চলছে, সেটা আইনি বাধার মুখে পড়লে পুরো কৌশলটাই ভেস্তে যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল আর গ্যাস এই পথ দিয়েই যায়। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এই অবরোধের আসল উদ্দেশ্য ইরান নয়, বরং চীনকে জ্বালানির সঙ্কটে ফেলা।

এখন এই লড়াইয়ের ইতি হতে পারে তিন উপায়ে। প্রথমত, একটি শান্তি চুক্তি। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে যেখানে দু’পক্ষই নিজেদের ‘বিজয়’ দাবি করার সুযোগ পায়, তবে ট্রাম্প এই আইনি গেরো থেকে মুক্তি পাবেন। তিনি বলতে পারবেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘চিরকাল চলতে থাকা যুদ্ধ’ বা ফরেভার ওয়ার শেষ করেছেন। ইরান প্রস্তাব দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি বিমান হামলা আর অবরোধ তুলে নেয়, তবে তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। বিশ্বের অনেক দেশ যারা এই অঞ্চলের ওপর তেলের জন্য নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি হবে বড় স্বস্তির খবর। তবে এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখন খুবই কম।

দ্বিতীয় পথটি হলো লড়াই চালিয়ে যাওয়া। ট্রাম্প যদি রিপাবলিকানদের সমর্থনে কংগ্রেস থেকে একটি বিশেষ অনুমতি বা ‘এইউএমএফ’ আদায় করতে পারেন, তবে তিনি আইনি ঝক্কি ছাড়াই আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারবেন। এতে ইরানের তেল আর ইউরেনিয়াম দখলের জন্য স্থল যুদ্ধের পথও প্রশস্ত হতে পারে। রিপাবলিকানদের সংখ্যাতত্ত্ব এই ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে কিছুটা সুবিধা দিলেও বিরোধীদের বাধায় পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

আর তৃতীয় সম্ভাবনা হলো এক অনিশ্চিত গর্তে পড়ে থাকা। অর্থাৎ ১ মে পার হয়ে যাবে, ট্রাম্প সময়সীমা মানবেন না এবং যুদ্ধ চলতেই থাকবে।

এটি ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এতে করে আগামী নভেম্বর নির্বাচনে তিনি আইনি আর রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়বেন। ট্রাম্প এমন কোনো ফলাফল চান না যেখানে তিনি নিজেকে বিজয়ী হিসেবে দেখাতে পারবেন না। ১ মে’র সময়সীমা যত কাছে আসছে, উত্তেজনা ততই বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কোন চাল চালেন, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ।

সূত্র : এনডিটিভি