মেক্সিকোর দুর্গম পাহাড়ে প্রাণ হারিয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দুই কর্মকর্তা। গত সপ্তাহে শেষ দিকে মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়ায় একটি গোপন মাদক পরীক্ষাগার ধ্বংস করে ফেরার সময় তাদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট আরো দুই ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন, নিহত মার্কিন নাগরিকরা সিআইএর হয়ে কাজ করছিলেন। একই দুর্ঘটনায় মেক্সিকোর দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব এবং দেশটিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এই অভিযানের প্রকৃতি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ব্যাপক গরমিল দেখা যাচ্ছিল। চিহুয়াহুয়া অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে এই অভিযানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে কাজ করার কথা জানালেও পরে তারা সেই বক্তব্য থেকে সরে আসে।
যদিও মেক্সিকান সেনাবাহিনীর এই অভিযানে অংশ নেয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো যৌথ অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
বিষয়টি প্রেসিডেন্টের জন্য বেশ বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তিনি একদিকে মেক্সিকোর সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলছেন, অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক কার্টেল দমনে তার ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে।
সিআইএর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা ও কূটনৈতিক টানাপড়েন
যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে নিহত কর্মকর্তাদের পরিচয় বা তারা কোন সংস্থায় কাজ করতেন সে বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। তবে তারা এটুকুই জানিয়েছে যে মার্কিন কর্মকর্তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে মাদকচক্র দমনে সহায়তা করছিলেন।
সিআইএ নিজেও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
উল্লেখ্য, মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদকপাচার ঠেকাতে সিআইএ তাদের তৎপরতা অনেকটাই বাড়িয়েছে। গত বছর খোদ প্রেসিডেন্ট শিনবাউম জানিয়েছিলেন, তার অনুরোধেই মেক্সিকোর আকাশসীমায় মার্কিন ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মেক্সিকান কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মরিয়া। মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের এই গোপন উপস্থিতি এবং অভিযানে অংশ নেয়ার বিষয়টি দেশ দু’টির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যেখানে ইসরাইল বা অন্যান্য মিত্র দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাতথ্য এবং অভিযান ভাগাভাগির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, সেখানে মেক্সিকোর মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এই ধরনের সরাসরি অপারেশনাল অংশগ্রহণ অনেককেই আবারো ভাবিয়ে তুলছে।
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চললেও সিআইএ কর্মকর্তাদের মেক্সিকোর গভীর অরণ্যে মাদক ল্যাব ধ্বংসের মিশনে থাকা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
সূত্র : এনডিটিভি



