হোয়াইট হাউসের কাছে পুলিশের গুলিতে আহত ২

ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে এক সন্দেহভাজন আহত হয়েছে এবং একটি ভ্রান্ত গুলিতে এক কিশোর আহত হয়; ঘটনার পর হোয়াইট হাউস এলাকায় সাময়িক লকডাউন জারি করা হয়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির নিরাপত্তা বলয় আবারো প্রশ্নের মুখে পড়ল। সোমবার (৪ মে) বিকেলে হোয়াইট হাউসের খুব কাছে ন্যাশনাল মলে এক বন্দুকধারীর সাথে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের গুলির লড়াইয়ে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ঘটনার সময় ন্যাশনাল মনুমেন্টের কাছে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ ঘোরাঘুরি করতে দেখেন সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা। তাকে থামানোর চেষ্টা করা হলে লোকটি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালায় নিরাপত্তা বাহিনীও। এই গোলাগুলির ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, হামলাকারীর ছোড়া একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি সেখানে থাকা এক কিশোরের গায়ে লাগে। তবে আহত কিশোরের আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানা গেছে।

সাধারণত ‘মল’ বলতে আমরা বিপণী কেন্দ্র বুঝলেও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল মল কোনো কেনাকাটার জায়গা নয়। এটি ওয়াশিংটন ডিসির প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি বিশালাকার জাতীয় উদ্যান বা উন্মুক্ত এলাকা। হোয়াইট হাউসের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তার স্বার্থে হোয়াইট হাউস লকডাউন করা হয়।

এই ঘটনার পরপরই বিকেল ৩টা ৪১ মিনিটে পুরো হোয়াইট হাউসে জরুরি লকডাউন জারি করা হয়। উত্তর দিকের লনে থাকা সংবাদকর্মীদের দ্রুত ব্রিফিং রুমের ভেতরে সরিয়ে নেয়া হয়। যদিও মিনিট পাঁচেক পরেই হোয়াইট হাউসের ভেতরে পূর্বনির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি এই গোলাগুলি নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

মজার ব্যাপার হলো, যখন বাইরে গুলির লড়াই চলছে, তার ঠিক কিছু সময় আগেই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের গাড়িবহর ওই এলাকা পার হয়েছিল। তবে তাকে লক্ষ্য করেই এই হামলা কিনা- তা এখনো নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে খোদ প্রেসিডেন্টের বাড়ির দোরগোড়ায় এমন সহিংসতা এবারই প্রথম নয়। মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটন হিলটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজ চলাকালীন ভয়াবহ এক গুলির ঘটনা ঘটে। সেবার কোল টমাস অ্যালেন নামের এক ব্যক্তি মেটাল ডিটেক্টর ডিঙিয়ে বন্দুক ও ছুরি নিয়ে ঢুকে পড়েছিল। ওই ঘটনায় এক সিক্রেট সার্ভিস সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং হামলাকারীকে প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়।

নিরাপত্তার এমন নড়বড়ে অবস্থার মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন যে তার প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে ওয়াশিংটন ডিসি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম নিরাপদ শহর। অথচ রোমহর্ষক এই গোলাগুলির ঘটনা তার সেই দাবিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। পুরো এলাকা এখন ঘিরে রাখা হয়েছে এবং সিক্রেট সার্ভিস এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র : ইউএসএ টুডে