সুদের হার কমানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজিরবিহীন চাপের মধ্যেই আজ শুক্রবার (২২ মে) হোয়াইট হাউসে শপথ নিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ।
ট্রাম্প মনোনীত ওয়ার্শ অতীতে সুদের হার কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। যদিও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিটি বর্তমানে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে রয়েছে।
ট্রাম্প নিয়মিতভাবে ওয়ার্শের পূর্বসূরি জেরোম পাওয়েলের তীব্র সমালোচনা ও অপমান করতেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি তদন্তও শুরু করা হয়েছিল। বিদায়ী চেয়ারম্যান পাওয়েলের মতে, মুদ্রানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ফেডের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই হোয়াইট হাউস ওই তদন্ত চালিয়েছিল।
এদিকে, বন্ধকী (মর্টগেজ) জালিয়াতির অভিযোগে বাইডেন প্রশাসনের নিয়োগপ্রাপ্ত ফেড গভর্নর লিসা কুককে বরখাস্ত করার চেষ্টা করেছে হোয়াইট হাউস। সে মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্বে থাকা স্বাধীন ও নির্দলীয় প্রতিষ্ঠান ফেডের প্রধানকে হোয়াইট হাউসে শপথ পড়ানো বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা। এর আগে ১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান হিসেবে অ্যালান গ্রিনস্প্যান হোয়াইট হাউসে শপথ নিয়েছিলেন।
হোয়াইট হাউস বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানায়, শুক্রবারের এই শপথ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই।
তবে সিনেটের অনুমোদন সংক্রান্ত শুনানিতে ওয়ার্শ জোর দিয়ে বলেন, তিনি ‘কোনো অবস্থাতেই’ প্রেসিডেন্টের ‘পুতুল’ হবেন না।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ডেভিড ওয়েসেল বলেন, ‘মুদ্রানীতিতে ফেডের স্বাধীনতা রক্ষা করার কথা বলেছেন ওয়ার্শ। আমি আশা করি তিনি তার কথায় অটল থাকবেন। কারণ ঝুঁকি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।’
ওয়ার্শ এমন এক সময়ে ফেডের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন সংস্থাটি অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল শ্রমবাজারের মতো ত্রিমুখী সঙ্কটের মুখোমুখি। ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যস্ফীতি আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ফেডের প্রধান দু’টি লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি দুই শতাংশের মধ্যে রাখা এবং সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।
গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশে, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মহামারীর পর থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধিতে মার্কিন পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে।
গত মাসের ফেড বৈঠকে অধিকাংশ নীতিনির্ধারক মত দেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকলে সুদের হার আরো বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
তবে ওয়ার্শের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক উদ্ভাবনের ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি না বাড়িয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে।
সূত্র: বাসস



