যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মঙ্গলবার (৫ মে) জানিয়েছেন, নির্দেশ পেলে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আবারো যুদ্ধ অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।
একইসাথে পেন্টাগন হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাবে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে সোমবার উভয় পক্ষের একাধিক হামলার পর এই সতর্কবার্তা এলো, যা গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথে উত্তেজনা বাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ উসকে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইরানের প্রভাবশালী প্রধান আলোচক বলেন, তেহরান ‘এখনো শুরুই করেনি’।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী মঙ্গলবার সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদিত পথের বাইরে কোনো জাহাজ গেলে ‘কঠোর জবাব’ দেয়া হবে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গত কয়েক দিনে আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালাইনি।’
এর আগে, সোমবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় আর ওয়াশিংটন দাবি করে তারা ছয়টি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে, যেগুলো বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি ছিল।
এটি প্রায় এক মাসের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে বড় উত্তেজনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, ‘নির্দেশ পেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আবার বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বর্তমান সংযমকে দুর্বলতা হিসেবে ভুল বোঝা উচিত নয়।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধ শেষ করতে চুক্তি করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি আরো ইরানি প্রাণহানি চান না। তিনি এই সঙ্ঘাতকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বলেও উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে কোনো সঙ্ঘাতে জড়াতে চায় না। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের হামলার জবাবে ‘অপ্রতিরোধ্য ও ধ্বংসাত্মক’ মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কর্মকাণ্ড নৌপরিবহনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তবে ‘তাদের প্রভাব কমে আসবে’ এবং ইরান হরমুজের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না।
সূত্র: বাসস



