ইরান ইস্যুতে চীন আরো অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারত বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সাথে চলমান সঙ্ঘাতে চীন হয়তো কিছুটা সাহায্য করছে, কিন্তু তারা চাইলে ‘আরো অনেক বেশি সহায়তা করতে পারত’। তবে বেইজিংয়ের এই অবস্থানে তিনি এখনই খুব বেশি হতাশ নন।
সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ কথা বলেন।
তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে মার্কিন সহায়তার উদাহরণ টেনে বলেন, ওয়াশিংটন যেমন নিজের মিত্রদের সাহায্য করে, চীনও তেমনটি করছে; তাই তিনি চীনকে খুব একটা ‘খারাপ’ নজরে দেখছেন না।
আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, আর তার আগেই এমন মন্তব্য বেশ ইঙ্গিতবহ।
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইরান ও ইসরাইল যখন মুখোমুখি অবস্থানে, তখন বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে সারা বিশ্বেরই নজর থাকে। ট্রাম্পের এবারের মন্তব্যে একটা কৌশলী ভঙ্গি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। তিনি একদিকে বেইজিংয়ের কাছ থেকে আরো সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন, আবার সরাসরি চীনের সমালোচনা করে সম্পর্ক খারাপ করতে চাইলেন না।
বিশেষ করে ইউক্রেন সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সাথে চীনের তুলনা দিয়ে তিনি একটা ভারসাম্য রক্ষা করেছেন। ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একেক দেশ একেক পক্ষ নেবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ইরানের ওপর বেইজিংয়ের যে প্রভাব আছে, সেটাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজে লাগাতে চান তিনি।
মে মাসে যখন ট্রাম্প বেইজিংয়ের মাটিতে পা রাখবেন, তখন বৈঠকে এই আলোচনাগুলোই থাকবে। চীন মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে এবং ইরানের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
ট্রাম্প চাচ্ছেন বেইজিং যেন তেহরানকে শান্ত রাখতে তাদের এই প্রভাবটুকু ব্যবহার করে। যদিও চীন এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে তেমন কিছু বলেনি, তবে ট্রাম্পের এই ‘বেশি আশা করার’ বিষয়টি শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে বড় কোনো দরকষাকষির হাতিয়ার হতে পারে। সহজ কথায় বললে, ট্রাম্প চীনকে পাশে পেতে চাইছেন, কিন্তু সেটা সরাসরি চাপ দিয়ে নয়, বরং বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে।
ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বা কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতিতে চীনের অবস্থান বদলে ট্রাম্প কতটা সফল হন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ট্রাম্পের ভাষায় চীন হয়তো ‘খুব একটা খারাপ’ নয়, কিন্তু কাজের বেলায় তারা কতটুকু যুক্তরাষ্ট্রের দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়, তার ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু।
বেইজিং সফরকে সামনে রেখে ট্রাম্পের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা



