ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তির লক্ষ্যে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠক

ইরানের সাথে যুদ্ধাবস্থা অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বিস্তারিত পরমাণু আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিরা দেশটির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সাথে একটি বৈঠক করেছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা
যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা |সংগৃহীত

ইরানের সাথে যুদ্ধাবস্থা অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক এবং বিস্তারিত পরমাণু আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিরা দেশটির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সাথে একটি বৈঠক করেছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে গিয়ে পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সাথে এই সাক্ষাৎ করেন। মূলত ইরানের সাথে আগামী দিনে যে পরমাণু আলোচনা হতে যাচ্ছে, তাতে কারিগরি সহায়তা জোগাতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউস চাইছে যেকোনো মূল্যে ইরানের সাথে একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছাতে, যাতে করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান ঘটে। যদিও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো কোনো সমাধান মেলেনি এবং চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না তা নিশ্চিত নয়, তবে আলোচনা এখন এক চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওক রিজ শহরের এ বৈঠকটি প্রমাণ করে যে আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এগোচ্ছে এবং চুক্তি হওয়ার একটা বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ওক রিজ শহরটি ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেন্ট্রিফিউজ প্রযুক্তির বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞদের প্রধান কেন্দ্র।

ইরানের সাথে একটি প্রাথমিক চুক্তি হয়ে গেলেই এই ১০০ জন বিশেষজ্ঞের একটি বিশেষ দল আলোচনার মূল কাজগুলো এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের এই দুই প্রতিনিধি এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে ৬০ দিনের একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে চুক্তি হয়েছিল।

এর মধ্যে ছিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া, ইরানের তেল বিক্রি এবং ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ও ভবিষ্যৎ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমার ওপর নানা বিধিনিষেধের বিষয়।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই খসড়ায় দু’টি পরিবর্তনের কথা বলেছেন। অন্যদিকে ইরানও কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করেছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রধান বিরোধ তৈরি হয়েছে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কমিয়ে আনার সময়সীমা নিয়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাইছে এটি ৬০ দিনের মধ্যে শেষ হোক, কিন্তু তেহরানের দাবি এর জন্য ৯০ দিন সময় চাইছে।

এছাড়া ইরানের জব্দকৃত তহবিল কবে এবং কী পরিমাণে ছাড় করা হবে, তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। যদি আলোচনা সফল হয়, তবে এই বিশেষজ্ঞ দলটি ইরানের পরমাণু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং তাদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা তৈরি করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কয়েকজন সম্প্রতি ভেনিজুয়েলা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সাউথ ক্যারোলাইনায় পাঠাতে সহায়তা করেছিলেন।

সূত্র: আনাদোলু অ্যাজেন্সি