মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া রিপাবলিকান দলের এক কংগ্রেসম্যান কেন্টাকির প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
এতে রিপাবলিকান দলের ভেতরে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তিশালী হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর কংগ্রেসম্যান টমাস ম্যাসি পরাজয় মেনে নেন। এই ফলাফলকে ভিন্নমত দমন করার প্রচেষ্টায় ট্রাম্পের জন্য আরেকটি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে, ইন্ডিয়ানা রাজ্যের আইনপ্রণেতারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন এবং সপ্তাহান্তে লুইজিয়ানায় সিনেটর বিল ক্যাসিডির পুনঃনির্বাচনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তারা নির্বাচনী এলাকার পুনর্বিন্যাস নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করেছিলেন।
ম্যাসির বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে ট্রাম্প সমালোচনামূলক প্রচারণা চালান। এতে ৩২ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিজ্ঞাপন ব্যয় হয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী এড গ্যালরিনের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন।
এসব ঘটনাই এক সময় শান্ত থাকা কেন্টাকির প্রাইমারি নির্বাচনকে জাতীয় পর্যায়ে ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
মঙ্গলবার কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাইমারি ভোট অনুষ্ঠিত হয়। তবে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিযোগিতা ছিল কেন্টাকিতে। সাত মেয়াদে নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান ম্যাসি প্রেসিডেন্টের দলের ভেতরের সবচেয়ে ধারাবাহিক সমালোচকদের একজন হিসেবে পরিচিত।
এই নির্বাচনকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল এভাবে যে যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতি সঙ্কট এবং জাতীয় পর্যায়ে কমতে থাকা জনপ্রিয়তার মধ্যেও রিপাবলিকান ভোটারদের ওপর ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণ কতটা শক্তিশালী আছে।
একইসাথে প্রশ্ন ছিল— যারা তার অবস্থানের সাথে ভিন্নমত প্রকাশ করেন, দলে এখনো এমন আইনপ্রণেতাদের জন্য জায়গা আছে কি-না।
ম্যাসি ইরান ও ভেনিজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান বিরোধিতা, ইসরাইলকে সহায়তা নিয়ে সমালোচনা ও জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পক্ষে অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের বিরাগভাজন হন।
ট্রাম্প কৃষক ও অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌ সেনা সদস্য গ্যালরিনকে সমর্থন দেন। গণমাধ্যম এটিকে মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হাউস প্রাইমারি নির্বাচনের একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ব্যয়ের সিংহভাগই এসেছে ম্যাসিবিরোধী ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলো থেকে।
সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া পরাজয় স্বীকারোক্তিমূলক ভাষণে ম্যাসি বলেন, ‘তারা আসনটি কিনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা অনেক নোংরা কৌশল ব্যবহার করেছে, কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থানে অটল ছিলাম।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে এই ৫৫ বছর বয়সী স্বাধীনতাবাদী, সাবেক প্রকৌশলী ও উদ্ভাবককে আক্রমণ করে আসছেন। তাকে তিনি ‘অবিশ্বস্ত’, নির্বোধ’ ‘উন্মাদ’ এবং বড় মাপের জঘন্য ব্যক্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি একজন খারাপ মানুষ ছিলেন, তার পরাজয় প্রাপ্য ছিল।’
সূত্র: বাসস



