নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত, আহত ৫

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার (১২ জুন) বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন কৃষক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নাইজেরিয়ায় কৃষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা
নাইজেরিয়ায় কৃষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা |সংগৃহীত

নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শুক্রবার (১২ জুন) বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন কৃষক নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

কৃষি মৌসুম শুরুর পর কৃষকদের ওপর চলমান সহিংসতার সর্বশেষ ঘটনা এটি। স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা বার্তাসংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ ও ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠী মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও গবাদিপশু লুটসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত। এসব গোষ্ঠী এখানে প্রাণঘাতী হামলা চালায় এবং কৃষকদের নিজেদের জমিতে প্রবেশের জন্যও কর আরোপ করে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা নিজেদের সাধারণ দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় জমিতে কাজ করা কৃষকদের ওপর গুলি চালায়। এতে ১৭ জন নিহত এবং আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন।

মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি দোসারা বলেন, ‘আজ সকালে গোরন নামায়ে এলাকায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন।’

এই ধারাবাহিক হামলাকে তিনি ‘২০২৬ সালের কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত নোংরা হামলা’ বলেও উল্লেখ করেন।

স্থানীয় নেতা আবুবকর জারা বলেন, ‘আমরা নিহত ১৭ জনকে দাফন করেছি। আহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

তিনি আরো বলেন, ‘কৃষকদের সুরক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের জন্যে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

গোরন নামায়ে এলাকার বাসিন্দা মানসির মুহাম্মদ একই হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, হামলাকারীরা নিজেদের দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল এবং কৃষকদের কাছে আসার পর তা বের করে গুলি চালায়।

আরেক এক বাসিন্দা নুরা মুসা জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামে হামলার সময় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা ১৩ জন বন্দুকধারীকে হত্যা করেছিল। ওই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেও এই হামলা হতে পারে।

নাইজেরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বর্ষা মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উত্তরাঞ্চলের বহু কৃষক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে তাদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটির খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

একই জেলার অপর একটি গ্রামের ৩৯ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে রোববার অপহরণ করা হয়। কৃষিজমিতে চাষাবাদের অনুমতি পেতে একটি গ্যাং প্রধানের ক্যাম্পে শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন ভুক্তভোগীরা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মঙ্গলবার সতর্ক করে জানিয়েছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে বিস্তৃত নিরাপত্তাহীনতা সরকারি রাজস্ব ও রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দারিদ্র্য ও খাদ্য সঙ্কটকে আরো তীব্র করতে পারে।

সূত্র: বাসস