পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে এক আত্মঘাতী হামলায় দেশটির প্রভাবশালী প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। এতে মন্ত্রীর পরিবারের তিন সদস্যসহ আরো বেশ কয়েকজন নিহত হন।
রাজধানী বামাকোর পাশের কাতি এলাকায় মন্ত্রীর বাসভবন লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
আল-কায়েদা ও বিদ্রোহী তুয়ারেগ গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত এই আক্রমণ এতটাই জোরালো ছিল যে, সামরিক জান্তা প্রধান জেনারেল আসিনি গোইতাকে তড়িঘড়ি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ- পুরো মালিজুড়ে এখন শুধু বারুদের গন্ধ আর যুদ্ধের দামামা। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীতে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কিদাল থেকে পিছু হটেছে সরকারের ভাড়াটে রুশ সেনাদল।
বিবিসি এবং ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে এসব চিত্র ফুটে উঠেছে। শনিবারের দিনটি ছিল মালির ইতিহাসের অন্যতম এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায়। আল-কায়েদার সাথে যুক্ত উগ্রবাদী গোষ্ঠী যখন বিস্ফোরক বোঝাই ট্রাক নিয়ে হামলা চালায়, তখন সরকারও স্তম্ভিত হয়ে পড়ে।
সরকারের মুখপাত্র ইসা উসমান কুলিবালি জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সরাসরি মন্ত্রীর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলে সাদিও কামারা নিজেও অস্ত্র হাতে পাল্টা লড়াই করেন। সেই সংঘর্ষেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাই তার মৃত্যু হয়।
এই হামলার তীব্রতা এতোটাই বেশি ছিল যে, মন্ত্রীর বাসভবনের সাথে পাশের একটি মসজিদও ধসে পড়ে এবং সেখানে নামাজরত সাধারণ মুসল্লিরাও প্রাণ হারান। শুধু বামাকো নয়, একই সাথে গাও, সেভারে ও মোপ্তির মতো শহরগুলোতেও একযোগে হামলা শুরু হয়।
বিশ্লেষকরা একে গত কয়েক বছরের মধ্যে মালিতে সবচেয়ে বড় এবং সুসংগঠিত হামলা হিসেবে দেখছেন।
সহিংসতা কিদাল শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে আলাদা রাষ্ট্রের দাবিতে লড়াই করে আসা তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা বা এফএলএ দাবি করেছে, তারা কিদাল শহর এখন পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়েছেন।
গত বছর রুশ মার্সেনারি বা ভাড়াটে সেনাদের সাহায্যে মালি সেনাবাহিনী এ শহরটি দখল করেছিল, কিন্তু এবারের লড়াইয়ে টিকতে না পেরে রুশ সেনারা একটি সমঝোতার মাধ্যমে শহর ছাড়তে রাজি হয়েছে।
এফএলএর দাবি, কিদাল এখন তাদের কাছে ‘মুক্ত’ এবং তাদের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে গাও ও টিম্বাকটু। এই ঘোষণা মালির বর্তমান সামরিক জান্তার জন্য এক বড় ধাক্কা, কারণ তারা এই বিদ্রোহীদের দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা নিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। জাতিসঙ্ঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস এই সহিংসতাকে বর্বর আখ্যা দিয়ে মালির জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন। পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক জোট ইকোওয়াস ও আফ্রিকান ইউনিয়নও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তবে মালির বর্তমান শাসকরা প্রতিবেশী বুরকিনা ফাসো আর নাইজারের সাথে হাত মিলিয়ে আলাদা এক জোট গড়েছেন।
বুরকিনা ফাসোর সামরিক নেতা ইব্রাহিম ত্রাওরে বলেছেন, এই হামলা সাহেল অঞ্চলের স্বাধীনতার সংগ্রামকে নস্যাৎ করার একটি চক্রান্ত। তিনি একে ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘অমানবিক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: বিবিসি ও তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি



