ইরান যুদ্ধে উপসাগরে ১৫০০ জাহাজ আটকা : আইএমও

‘আটকে পড়া নাবিকরা নির্দোষ মানুষ, যারা প্রতিদিন অন্য দেশের স্বার্থে কাজ করেন। কিন্তু নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা আটকা পড়েছেন।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
উপসাগরে ১৫০০ জাহাজ আটকা
উপসাগরে ১৫০০ জাহাজ আটকা |সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক হাজার ৫০০ জাহাজ এবং সেগুলোর নাবিকরা আটকা পড়েছেন। জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) প্রধান বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান।

আইএমও মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ পানামায় আমেরিকার সামুদ্রিক সম্মেলনে বলেন, ‘এই মুহূর্তে প্রায় ২০ হাজার নাবিক ও প্রায় এক হাজার ৫০০ জাহাজ আটকা রয়েছে।’

পানামা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে তেহরান পুরো অঞ্চলে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে অবরোধ দেয়।

ডোমিঙ্গেজ বলেন, বিশ্বে ব্যবহৃত মোট পণ্যের ৮০ শতাংশের বেশি পরিবহন হয় সমুদ্রপথে।

তিনি আরো বলেন, আটকে পড়া নাবিকরা নির্দোষ মানুষ, ‘যারা প্রতিদিন অন্য দেশের স্বার্থে কাজ করেন। কিন্তু নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা আটকা পড়েছেন।’

তিনি পরে সাংবাদিকদের জানান, ‘৩০টির বেশি জাহাজে হামলার ঘটনায় ১০ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।’

আইএমও প্রধান নাবিকদের প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ না পাঠানোর আহ্বান জানান।

সঙ্ঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে এবং প্রণালী খুলে দিতে নৌ-অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই উদ্যোগ স্থগিত করা হয়।

বর্তমানে যুদ্ধ অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর প্রস্তাবে ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন। বাসস