জামের যেসব উপকারিতা জানলে অবাক হবেন!

প্রতি ১০০ গ্রাম জামে ক্যালরি ৬২, কার্বোহাইড্রেট ১৫.৫ গ্রাম, ফাইবার ১.৫ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৮ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.৪১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম থাকে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
কালো জাম
কালো জাম |ইন্টারনেট

গরমে যেন কমতি নেই অস্থিরতার। তবে তা অনেকটা ভুলিয়ে দেয় মৌসুমে পাওয়া রসালো, মিষ্ট ও সুস্বাদু বাহারি ফলমূল। হাত বাড়ালেই মেলে এসব ফল।

তেমনি বাজারে পাওয়া যায় কালো জাম। এটি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ব্ল্যাক প্লাম‚ জাম্বুল‚ জাম্বোলান‚ জাম্বাস‚ মালাবার প্লাম‚ রজামান‚ নেরেডু‚ কালা জামুন‚ নাভাল‚ জামালি‚ জাভা প্লাম ইত্যাদি নামে পরিচিত এটি।

ইতোমধ্যে বাজারে উঠে গেছে গ্রীষ্মের এ ফল। খেতে যতটা সুস্বাদু তার চেয়ে বেশি পুষ্টিগুণে ভরপুর তা। রসে টসটসে বেগুনি রঙের এ মিষ্টি ফল জাম খেতে কার না পছন্দ। তবে নুন-লংকা দিয়ে মেখে খাওয়ার আনন্দ বলার উপেক্ষা রাখে না।

তবে জাম শুধু মুখের স্বাদই দেয় না, শরীরে আরো নানা উপকারে লাগে। ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে পেট ঠান্ডা ও হজমশক্তি বাড়ায় এ জাম। একইসাথে বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। জামে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফ্যাঙ্গাল উপাদান, যা জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুখ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

এছাড়া যাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন কম, তাদের জন্য জাম খাওয়া খুবই উপকারী। যার কারণে অন্য ফলের তুলনায় এটি বেশ স্বাস্থ্যকর। তাই এ মৌসুমে নিয়মিত খেতে পারেন জাম।

জানা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম জামে ক্যালরি ৬২, কার্বোহাইড্রেট ১৫.৫ গ্রাম, ফাইবার ১.৫ গ্রাম, ভিটামিন সি ১৮ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.৪১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৫৫ মিলিগ্রাম থাকে।

এবার পুষ্টিবিদদের বলা উপকারগুলো বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

আয়রন সমৃদ্ধ কালো জাম হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়। ফলে রক্ত শরীরের অঙ্গগুলোতে আরো অক্সিজেন বহন করে এবং শরীর সুস্থ রাখে। এ ছাড়া রক্ত পরিশুদ্ধ করতেও জামের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

চোখ ও ত্বক ভালো রাখে এ ফল। হার্ট সুস্থ রাখা পটাশিয়ামে ভরপুর কালো জাম, যা হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া ফলটি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো রোগব্যাধি প্রতিরোধ করে।

পাশাপাশি ধমনীও সুস্থ রাখে জাম। মাড়ি ও দাঁত মজবুত করে কালো জাম। এছাড়া জামগাছের পাতায় ব্যাকটেরিয়ারোধী গুণ রয়েছে। এটি মাড়ির রক্তপাত রোধ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে টুথ পাউডার হিসেবে ব্যবহার করলেও মিলবে উপকার। এতে মাড়ির রক্তপাত ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

সংক্রমণ প্রতিরোধ করে জামে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফেক্টিভ ও অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া গুণ রয়েছে। এ ছাড়া এ ফলে ম্যালিক অ্যাসিড, ট্যানিন, গ্যালিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড ও বেটুলিক অ্যাসিড রয়েছে।

কালো জাম ডায়াবেটিসের বিভিন্ন লক্ষণ নিরাময় করতে পারে। এতে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রয়েছে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। জামের বীজ, গাছের ছাল ও পাতা ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

এদিকে যাদের অম্বলের সমস্যা আছে, তারা বেশি করে জাম খেলে উপকার পাবেন। একইসাথে অ্যাসট্রিনজেন্ট প্রপার্টি থাকার ফলে জাম ত্বক অয়েল ফ্রি রাখে। এছাড়া অ্যাকনে আর কালো ছাপ দূর হয়।