এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রোববার থেকে শুরু হয়েছে ৭ দিনের এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩। মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
মেলার উদ্বোধন করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মেলার ১৫০টিরও বেশি স্টলে হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী/হেরিটেজ পণ্য, প্রস্তুত খাবার ও স্ট্রিট ফুড, কৃত্রিম গয়না, চামড়াজাত পণ্য এবং সুগন্ধি ও লাইফস্টাইল পণ্যের এসএমই উদ্যোক্তাগণ তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করবেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন এবং শিল্পসচিব মো: ওবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের পরিচালক পর্ষদ সদস্য সামিম আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং উৎসবের প্রাণকে একত্রিত করে এক অনন্য অভিজ্ঞতা উপহার দিতে এবং নতুন বছরের আনন্দকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে পরিবার, বন্ধু এবং প্রিয়জনদের সাথে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে এসএমই বৈশাখী মেলা ১৪৩৩ আয়োজন করা হয়।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানায়, এটি শুধু একটি মেলা নয়-এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক আয়োজন। যেখানে একসাথে উপভোগ করা যাবে কেনাকাটা, বিনোদন, লাইভ পরিবেশনা এবং লোকজ ঐতিহ্যের অসাধারণ সমন্বয়।
মেলা সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা (পহেলা বৈশাখ সকাল ৮টা থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে)। ১২ এপ্রিল মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মনিপুরি নৃত্য ও গম্ভীরা গান। ১৩ এপ্রিলের বিশেষ আকর্ষণ শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ ও কুদ্দুস বয়াতির পরিবেশনা। ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) থাকবে সোহান আলী, প্রজন্ম (নৃত্য পরিবেশনা) ওশান মিউজিক ক্রু, নৃত্যছায়া ও বাউল সঙ্গীত।
মেলায় দর্শনার্থীদের জন্য নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী ও বিনোদনমূলক আয়োজনের মধ্যে থাকছে নাগরদোলা, ফেস পেইন্টিং, টিয়া পাখির মাধ্যমে ভাগ্য গণনা, বানর খেলা, কিডস জোন, বেলুন শুটিং, রণপা, আদিবাসী ও লোকজ নৃত্য (গম্ভীরা, মনিপুরি), লাইভ টি-শার্ট পেইন্টিং, ও ঢাক-ঢোলের পরিবেশনা।
মেলায় একটি ব্যতিক্রমধর্মী আকর্ষণ হিসেবে থাকছে টোকাই গ্রুপ, যারা পুরো মেলা জুড়ে লাইভ স্ট্রিট পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করবে। মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে টেস্ট অব বাংলাদেশ কর্নার, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী স্বাদের সমাহার ঘটবে।
থাকবে বাংলাদেশের ৮টি জেলার বিশেষ খাবার। মেলায় প্রবেশের জন্য দুই ধরনের টিকেটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সাধারণ টিকিট: প্রতিদিনের জন্য পৃথক, মূল্য ৩০ টাকা এবং এক্সপ্রেস টিকিট (৭ দিন): ২০০ টাকা (পার্কিং ফ্রি সুবিধাসহ)।
অনুষ্ঠানে শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এসএমই খাত অর্থনীতির প্রাণ। এই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির তহবিল ৩০০ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করবে সরকার।



