ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি আধুনিকায়ন করেছে দেশের শীর্ষ মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ। শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশে বই পড়া ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ সম্প্রসারণে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সেন্ট যোসেফ স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী ও প্রয়াত বিকাশ কর্মকর্তা মাহফুজ সাদিকের স্মরণে লাইব্রেরিটির অবকাঠামোগত সংস্কার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হয়। আধুনিকায়নের ফলে এখন একসাথে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করতে পারবেন। সদস্য কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বই বাড়িতেও নিয়ে যেতে পারবেন।
এছাড়া লাইব্রেরিতে ইন্টারনেট সুবিধাসহ উন্নত কনফিগারেশনের কয়েকটি ডেস্কটপ কম্পিউটার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ই-বুক ও অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন।
লাইব্রেরি আধুনিকায়ন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার স্কুল প্রাঙ্গণে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর, চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মো. মনিরুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. ব্রাদার লিও জেমস পেরেইরা, মাহফুজ সাদিকের সহধর্মিণী ড. মালিহা মোজাম্মিল, আইডিএলসি ফাইন্যান্স-এর চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের বিশেষ উপদেষ্টা প্রফেসর ইমরান রহমান।
সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাহফুজ সাদিক ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে এসএসসি পাস করেন। তিনি স্কুলের ডিবেটিং ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় তিনি বিবিসি-এর লন্ডন অফিসে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন-এ শিক্ষকতাও করেন। ২০২১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিকাশের চিফ কমিউনিকেশন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৪২ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির সাথে যুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত দেশের ৩ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগারে ৪ লাখেরও বেশি বই বিতরণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৩৪ লাখ পাঠক উপকৃত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার আধুনিকায়ন কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে বিকাশ। বিজ্ঞপ্তি



